বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বিএনপি-জোট থেকে তাহলে এলডিপি বেরিয়ে আসবে?

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, স্টকহলম থেকে।

মানুষ ভুল করতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। তবে রাজনীতিতে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে দলের কি অবস্থা হয় তার জলন্ত প্রমান বর্তমান বিএনপি। সরকার কর্তৃক বার বার অনুরোধ জানানো সত্তেও গত নির্বাচনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কারণে তারা নির্বাচন বয়কট করেছিল। ফলে বিএনপির এখন নাই নাই অবস্থা।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থা আরো সংকটপূর্ণ বলে জানা গেছে। জামায়াত বিরোধী যারা একসময় বিএনপির জোটে নাম লিখিয়েছিলেন তাদের অনেকেই এখন দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে জোট থেকে কেটে পরার কথা চিন্তা করছেন। এদের অনেকেই এখন আর বেগম খালেদা জিয়ার উপর নির্ভর করতে পারছেন না। তাই এখন বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে দ্বিমত দেখা দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এধরনের আরো দল বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে আসলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই।

বিড়ালের গলায় কে বাধবে ঘন্টা? এই উত্তরের জন্য জনগনের আর অপেক্ষা করতে হয়নি। সম্প্রতি আসছে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে ভোটে যাবে বলে জানিয়েছে বিএনপির শরিক দল এলডিপি। বিএনপি থেকে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনকে নতুন ষড়যন্ত্র’ও বয়কটের কথা বললেও তাদের অন্যতম শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) জোটের বাইরে এসে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা এখন ঘোষণা করলো। দলের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:)অলি আহমদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো জোটগতভাবে করা সম্ভব নয়। আমরা আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।”তিনি দলের নেতা-কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন।

সাবেক এই বিএনপি নেতা একসময় তারেক রহমান, জামায়াত ও পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বিএনপি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। তবে গত নির্বাচনে সকলকে অবাক করে দিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোটে গিয়ে যোগ দিয়েছিলেন এই নেতা। শুধু তাই নয় কর্নেল(অব)অলি আহমদ পুনরায় বিএনপিতে ফিরে আসার চেষ্টা করেছিলেন বলেও মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়। এখন বিএনপিতে যাওয়া তো দুরের কথা জোটের বাহিরে এসে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সরকার দলীয় প্রতীক ও মনোনয়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের পর এই প্রথম ২০ দলীয় জোটের কোনো শরিক তাতে সায় দিল।

এদিকে বিএনপি এখন স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে যতো কথাই বলুক না কেন তারা আসছে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে বাধ্য থাকবে বলে পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপি চায় জোটের মাধ্যমে এই নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে। তাহলে তাদের অন্যতম শরিক দল জামায়াত প্রার্থীরা অংশগ্রহনের সুযোগ পাবে। শুধুমাত্র এই কারণেই বিএনপি চাইবে জোট ভিত্তিক নির্বাচন। বিএনপি মনে করে উপজেলা, পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের একটা বড় ভোট বাক্স এখনো বর্তমান। একে কাজে লাগিয়ে জোট ভিত্তিক নির্বাচনে তাদের বেশি আসন পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও বিএনপি দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে বলেই পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। তাই ভেতরে ভেতরে প্রার্থী মনোয়নের ক্ষেত্রে জোটগতভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, জামায়াত সহ কিছু ছোটো ছোটো শরিক দল। ইতিমধ্যেই বিএনপি জোটের সমর্থন পাওয়া কিছু কিছু প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে নামতে দেখা গেছে।

মিডিয়ায় প্রকাশ, হটাত করে এলডিপির স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ভিন্নমত কেন প্রশ্ন করা হলে এবেপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান। বিএনপির নেতারা এখন বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফিরে আসার দিকে তাকিয়ে আছেন। নভেম্বরের প্রথম দিকে তার দেশে ফিরে আসার কথা। তিনি দেশে ফিরলে এবিষয়ে দল হয়তো একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে সিদ্ধান্ত নির্বাচনে অংশগ্রহনের পক্ষেই আসবে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। কারণ দলকে চাঙ্গা করতে বিএনপিকে নির্বাচনমুখী হতেই হবে। তা না হলে দলীয় পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ ধারণ করার সম্ভবনা রয়েছে বলে বিএনপির অনেক নেতারা মনে করেন। অন্যদিকে একথাও সত্য যে বিএনপি নির্বাচনে গেলে জামায়াতকে টিকিয়ে রাখার জন্য জোট ভিত্তিক নির্বাচনেঅংশগ্রহন করবে, এককভাবে নয়। যদিও বিএনপির তৃণমূলের নেতারা এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহনের পক্ষে।

তবে কর্নেল অব অলি আহমদ শেষ পর্যন্ত হয়তো বুঝতে পেরেছেন বিএনপির জোটে সামিল হয়ে তার দলের ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হয়নি। বিএনপি কখনই জামায়াতকে ছাড়বে না। অন্যদিকে একজন মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে তিনি জামায়াতকে কি করে গ্রহণ করবেন এ প্রশ্ন তাকে বার বার আঘাত করছে। এতক্ষণে তিনি তার ভুল বুঝতে পেরেছেন। তাই হয়তো নিয়েছেন এধরনের একটি সিদ্ধান্ত। সেই সাথে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তিনি বলেন, দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন নয়।”এলডি পি কে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহবানও জানান অলি। পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন শেষ পর্যন্ত হয়তো এলডিপি আর বিএনপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকবে না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে দলটি অন্য কোনো জোটে যোগদান করতে পারে কিংবা নুতন কোনো জোট সৃষ্টি করতে পারে।তাই স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন আসতে পারে, কর্নেল(অব:)ওলির এলডিপি কি তাহলে জোট থেকে বেরিয়ে আসবে?

আরও পড়ুন