জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৩৬ বছর ধরে চলা কঠোর এক সন্তান নীতি থেকে সরে আসছে চীন। দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির বিবৃতির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপরিচালিত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বৃহস্পতিবার বলেছে, সব দম্পতিকেই এখন থেকে দুই সন্তান নেয়ার অনুমতি দেয়া হবে।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চীনের বিতর্কিত এই নীতি ১৯৭৯ সালে চালু করা হয়। চীনের বয়োজৈষ্ঠ্য নাগরিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এক সন্তান নীতি গ্রহণ করায় কমপক্ষে ৪০ কোটি শিশুর জন্মনিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। যেসব জুটি এই নীতি অমান্য করেছে তারা জরিমানা, চাকরি হারানোর পাশাপাশি বাধ্যতামূলক গর্ভপাতের শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সমাজবিজ্ঞানী ও জনমিতি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কিছু প্রদেশে এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছিল। সরকারকে দেওয়া পরামর্শে বলা হয়েছিল, এই নীতির কারণে সরকারের সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাবে। এই ঘোষণাটি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নীতি নির্ধারণী সম্মেলনের শেষ দিনে এসেছে। এই সম্মেলনের শেষে আগামী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ঘোষণা করবে।
এর আগে ২০১৩ সালের শেষ দিকে পরিবার পরিকল্পনা নীতি কিছুটা শিথিল করেছিল চীন। তখন বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে দম্পতিদের দুই সন্তান নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। দুই বছর আগে কমিউনিস্ট পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে এ নীতি শিথিল করতে শুরু করে। যেসব দম্পতির একজন বাবা-মায়ের এক সন্তান সে সব দম্পতিকে দ্বিতীয় সন্তান নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়।
বর্তমানে চীনের জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের উর্ধ্বে।
বিবিসি সংবাদদাতারা বলছেন, নীতি শিথিল হলেও এখনও অনেক দম্পতি এক সন্তানই নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এক সন্তানের পরিবারই এখন চীনে সামাজিক প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


