পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের চেষ্টা করেছে কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) খলিলুর রহমান।
ওই ঘটনায় লোকলজ্জার ভয়ে ছাত্রীটি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ অভিযুক্ত সিএইচসিপি খলিলুর রহমানকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার আদালতে প্রেরণ করেছে।
থানা পুলিশ ও স্কুলছাত্রীর মা জানান, ২৫ অক্টোবর ওই স্কুলছাত্রী উপজেলার দক্ষিণ বড়মাছুয়া গ্রামের দারোগা বাড়িসংলগ্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে জ্বর ও সর্দি-কাশির ঔষধ আনতে যায়। এ সময় খলিলুর রহমান অন্যান্য রোগীকে সেবা দিয়ে কৌশলে ওই ছাত্রীকে বসিয়ে রাখে। পরে ক্লিনিকের দরজা বন্ধ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ছাত্রীর চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় বুধবার রাতে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করলে থানা পুলিশ কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) স্থানীয় সালেহ্ তালুকদারের ছেলে খলিলুর রহমানকে রাতেই বড়মাছুয়া বাজার থেকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে, ওই ঘটনায় প্রভাবশালী একটি মহল সালিশের ব্যবস্থা করে। সালিশে ২৫ হাজার টাকা ছাত্রীর মাকে ধরিয়ে দিয়ে জোর করে লিখিত নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে লোকলজ্জায় স্কুলছাত্রীটি মঙ্গলবার বিকেলে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তাকে অসুস্থ অবস্থায় মঠবাড়িয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অভিযুক্ত খলিলকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও সিএইচসিপি খলিল দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানী করে মোটা অংকের জরিমানা দেয়।


