খুলনার দৌলতপুরের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও পাট শ্রমিক ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম ওরফে হুজী শহীদকে (৪৬) প্রকাশ্য দিবালোকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। দৌলতপুর ইসলামী ব্যাংকের সামনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে মোটরসাইকেলে করে এসে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে ১১ রাউন্ড গুলি করে। এ সময় তিনি নিজ প্রাইভেটকারে অবস্থান করছিলেন।
গুলিবিদ্ধ শহিদুল ইসলামকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার কামরুজ্জামান বলেন, দৌলতপুরে ইসলামী ব্যাংকের সামনের সড়কে যানজটের কারণে শহীদের গাড়িটা থেমে যায়। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে ফেলে। তারা শহীদকে লক্ষ্য করে ১১ রাউন্ড গুলি করে। গাড়ির বডি ভেদ করে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ গাড়ির মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন। অজ্ঞাত কারণে গাড়িচালক ওই অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক কিলোমিটার দূরে অফিল স্কুলের সামনে গাড়ি রেখে পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন গুলিবিদ্ধ শহীদকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে শহীদের সহযোগীরা তার মৃতদেহ গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
কামরুজ্জামান আরও জানান, ঘটনার পর গাড়িচালকের পালিয়ে যাওয়া রহস্যজনক। দৌলতপুর ইসলামী ব্যাংকের সামনের সড়ক থেকে ১০টি পিস্তলের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাবলা আফিল স্কুলের সামনে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সন্ত্রাসীরা গাড়ি ধাওয়া করে এখানে এসে গুলি করে চলে যায়। তাদের যুক্তি, গাড়ির সামনের চাকা ছিল গুলিবিদ্ধ। এ অবস্থায় এক কিলোমিটার পথ গাড়ি নিয়ে আসা সম্ভব কি না— প্রশ্ন তাদের।
প্রসঙ্গত, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে চরমপন্থীর তালিকাভুক্ত ছিলেন শহিদুল ইসলাম ওরফে হুজী শহীদ। পরে সরকার দলীয় এমপি ও প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়ে তিনি জ্বালানি তেল ও ঠিকাদারসহ বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
শহিদুল ইসলামের ভাই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দৌলতপুর-খালিশপুরের একটি প্রভাবশালী চক্র তার ভাইকে হত্যা করেছে।


