বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

হিন্দু বসতিতে হামলায় আহত ১০,মহিলার গর্ভপাত: আটক ৮

Dhaka-Photo-30-10-15ফেনীর পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের (পঞ্চায়েত) মাথিয়ারা এলাকায় লক্ষ্মী পূজায় আতশবাজি পোড়ানোর সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় হিন্দু বসতির অন্তত ১০ জন জখম হয়েছেন। এদের মধ্যে আক্রান্ত এক গর্ভবতী ক্রমাগত রক্তক্ষরণের পর সাত মাসের মৃত সন্তান প্রসব করেছে। হামলাকারীরা হিন্দুদের দোকান, বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০ জন আহত হয়েছেন। আরও হামলার ভয়ে অর্ধশত পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নৌকায় উঠে ছোট ফেনী নদীতে আশ্রয় নেয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে নদীতে ভাসতে থাকা পরিবারগুলো বাড়ি ফিরে আসে। বুধবার মধ্যরাতের পর ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারার জেলেপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ফেনী জেলা পূজা পরিষদের সভাপতি রাজীব খগেশ দত্ত এই তথ্য জানান।

এদিকে এই ঘটনায় শুক্রবার স্থানীয় থানা পুলিশ ৮ জনকে আটক করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের ফেনী আদালতে তোলা হলে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা জহরলাল দাস জানান, লক্ষ্মীপূজার আতশবাজি ফুটানোর জেরে বুধবার মধ্যরাতে মাথিয়ারা গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে ইকবালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন যুবক জেলেপাড়ায় হামলা চালায়। এ সময় তারা বিভিন্ন ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পাড়ার লোকজন হামলাকারীদের প্রতিহত করতে গেলে তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে তাদের আহত করে। এ সময় হামলাকারীরা সাত মাসের গর্ভবতী তুলসী রানী দাস কণিকার (২০) ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। এতে কণিকার প্রচণ্ড রক্তপাত হলে বৃহস্পতিবার ভোরে ফেনী সদর হাসপাতালে মৃত সন্তান প্রসব করেন।

এদিকে হামলাকারীদের অস্ত্রের আঘাতে জহরলাল দাস (৪৫), আলো রানী দাস (২৮), শোভা রানী দাস (৪৫), শুকদেব দাস (১২), পরিমল দাস (৬০), বিকাশ (২৪) সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অসীম কুমার সাহা জানান, প্রসূতি কনিকা রানী এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। তাকে রক্ত দেয়া হয়েছে।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব মোর্শেদ জানান, হামলার ঘটনায় জহরলাল দাস বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তল্লাশি শুরু করে। শুক্রবার দুপুরের মধ্যে আট জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হল: নূর হোসেন, আমির হোসেন, জাকির হোসেন, আলমগীর হোসেন, রিয়াজ উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম ও সোহাগ।

এদিকে ফেনীর জেলা পুলিশ সুপার রেজাউল হক জানিয়েছেন, হামলার সময় বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রশাসনের আশ্বাসে শুক্রবার দুপুরের মধ্যে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছে।

আরও পড়ুন