বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

একদিনেই ৪ ব্লগার-প্রকাশকের ওপর হামলা, একজন নিহত

nondi-muderবাংলাদেশে পরিকল্পিত ধারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন মুক্তচিন্তার লেখক ও ব্লগাররা। শনিবার বিকেলে এক ঘণ্টার মধ্যে দুইটি স্থানে চার জনের ওপর হামলার ঘটনায় একজনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। দুইটি ঘটনাই ঘটেছে বই প্রকাশনা সংস্থার নিজ কার্যালয়ে। জখম অপর তিনজনের মধ্যে দুই জনের অবস্থা সংকটজনক। ঢাকার মোহাম্মদপুর ও শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে এই দুইটি ঘটনা ঘটে। এর আগে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হত্যায় যে ধরনের উপায় অবলম্বন করা হয়েছিল শনিবারের দুইটি হামলার ধরনও একই। হামলার শিকার এই দুই প্রকাশক নিহত ব্লগার অভিজিত রায়সহ বেশ কয়েকজন মুক্তচিন্তার লেখকের বই প্রকাশ করেছেন।

পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরাুল ইসলাম বলেন, “এ হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত। একাধিক ব্যক্তি এ হত্যায় অংশ নিয়েছিল বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।”

দীপনকে হত্যার ঘণ্টাখানেক আগে শাহবাগ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মোহাম্মদপুর এলাকায় ‘শুদ্ধস্বর’ নামের একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে হামলা চালিয়ে প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল ও সেখানে অবস্থান করা আরো দুই ব্লগার ও লেখক তারেক রহিম ও রণদীপম বসু-কে কুপিয়ে জখম করা হয়। এই তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুদ্ধস্বর থেকে নিহত ব্লগার অভিজিৎ রায়ের ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ সহ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছিল।

আজিজ মার্কেটের ঘটনায় জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে ঢুকে আগে হত্যার শিকার হওয়া অভিজিত রায়ের বইয়ের প্রকাশক আরেফিন দীপনকে হত্যা করা হয়। দীপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের স্বনামখ্যাত অধ্যাপক ও লেখক আবুল কাশেম ফজলুল হকের একমাত্র পুত্র। দীপনের মালিকানাধীন জাগৃতি প্রকাশনী অভিজিত রায়ের ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ নামের জনপ্রিয় বইটি প্রকাশ করেছিল।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ব্লগার অভিজিৎ রায়কে অমর একুশে বইমেলার কাছে কুুপিয়ে হত্যা করা হয়। চলতি ২০১৫ সালেই আততাীয়দের হামলায় চারজন ব্লগার হত হয়েছেন। তারা হলেন অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়। বাংলাদেশে ২০১৩ সালের পর থেকে আহমেদ রাজীব হায়দারসহ মোট পাঁচজন ব্লগার নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার জন্য লেখক ও অনলাইন কর্মীরা উগপন্থী ইসলামী জঙ্গিদের দায়ী করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের এডিসি মোহাম্মদ জসিম বলেছেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছটার দিকে নিজের অফিস থেকে দীপনকে রক্তাক্ত অবস্থায় বের করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দীপনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। জাগৃতি প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন জানান, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে অফিসে ঢুকে স্যারকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তার ঘাড়ে কোপের চিহ্ন ছিল।

নিহত লেখক অভিজিৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে। ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখালেখি করতেন অভিজিৎ, তাকে হত্যায় জঙ্গিরা জড়িত বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে।

উদয়ন স্কুলে অভিজিতের সহপাঠী দীপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে লেখাপড়া করেছেন। তার স্ত্রী একজন চিকিৎসক। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।

আরও পড়ুন