শুক্রবার ৬ নভেম্বর ২০২৬

হত্যার ‘মোটিভ’ কেন বের হয় না, সরকার ভাল বলতে পারবে: নির্মূল কমিটি

Ekattorকয়েক ঘন্টার ব্যবধানে রাজধানী ঢাকায় ৪ জন ব্লগারের উপর জঙ্গী মৌলবাদীদের প্রাণঘাতী হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে ঘাতকদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুলের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রবিবার সংগঠনের সভাপতি বিচারপতি গোলাম রাব্বানী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়ঃ
‘৩১ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে কয়েক ঘন্টার ভেতর শাহবাগে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ও ব্লগার ফয়সাল আরেফিন দীপনকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা এবং লালমাটিয়ায় “শুদ্ধস্বর” প্রকাশনীর মালিক ও ব্লগার আহমেদ রশীদ টুটুল সহ অনলাইন লেখক তারেক রহিম ও রণদীপম বসুকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও গুলি করা হয়েছে। দীপন হত্যার দায় স্বীকার করে জঙ্গী মৌলবাদী সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ তাদের ব্লগে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও হত্যার ঘোষণা দিয়েছে।
‘আড়াই বছর আগে গণজাগরণ মঞ্চের ব্লগার রাজিব হত্যার পর থেকে আমরা সরকারকে বার বার বলছি ঘাতকদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচার আদালতে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া না হলে মুক্তচিন্তার মানুষদের উপর মওদুদির হত্যা-সন্ত্রাস-জেহাদের দর্শনের অনুসারীরা এ ধরনের বর্বরতম ও কাপুরুষোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রাখবে। গত আড়াই বছরে বিশিষ্ট বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ড. অভিজিত রায় সহ মুক্তচিন্তার দশজন তরুণ ব্লগার ও লেখককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে অথচ একজন ঘাতকেরও বিচার ও শাস্তি হয়নি।

‘কারা, কী উদ্দেশ্যে, কাদের হত্যা করছে এ বিষয়ে সবাই অবগত থাকলেও পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যার ‘মোটিভ’ খুঁজে বের করা কেন সম্ভব হয় না, সরকারের নীতিনির্ধারকরা ভাল বলতে পারবেন। যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী জঙ্গী মৌলবাদী হেফাজতে ইসলাম ‘নাস্তিক’, ‘মুরতাদ’ আখ্যা দিয়ে ৮৪ জন ব্লগারের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। হেফাজতের শীর্ষ নেতারা ২০১৩ সালে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যত্র বিশাল বিশাল জনসমাবেশে তথাকথিত ‘নাস্তিক’, ‘মুরতাদ’দের হত্যার ঘোষণা দিয়েছে। ব্লগার হত্যার একজন হুকুমের আসামীকেও এ পর্যন্ত গ্রেফতার না করার ফলে জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’-এর ঘোষণা প্রহসনে পরিণত হতে যাচ্ছে।

‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আরম্ভের পর থেকে সারা দেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস, নাশকতা ও হত্যার পথ বেছে নিয়েছে জামায়াত। তারা বলেছে তাদের কোনও নেতার কিছু হলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে। জামায়াত ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশে ও বিদেশে যুদ্ধ আরম্ভ করেছে। একের পর এক মুক্তচিন্তার লেখক-ব্লগারদের হত্যাকাণ্ড, দুই বিদেশী হত্যা, সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও হত্যা, হরতাল-অবেরোধের নামে গণপরিবহনে জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা কোনওটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অবিলম্বে সকল সন্ত্রাসের গডফাদার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে তাদের যাবতীয় সংগঠন মওদুদিবাদী প্রকাশনা ও কার্যক্রম বন্ধ না হলে শুধু মুক্তচিন্তার ব্লগার নয়, গোটা বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির অস্তিত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় অর্জন বিপন্ন হবে।

‘আমরা নিহত সহযোদ্ধা দীপনের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি তার পরিবারের শোকসন্তপ্ত সদস্যবৃন্দ এবং শুভানুধ্যায়ী ও সহযোগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।’

আরও পড়ুন