ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বেশিরভাগ সড়ক এদিন হয়ে পড়েছিল এমন ‘জটগ্রস্ত’।
সারাদিনের কর্মক্লান্তি নিয়ে রাস্তায় নেমে অসহায় হয়ে পড়া মানুষের অনেকেই তাই ঝাড়লেন ক্ষোভ, হতাশা। প্রতিকার চাইলেন এই ‘অব্যবস্থাপনার’।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পল্লব শিকদার যেমন বললেন, “মানুষকে কষ্ট দেওয়াটা পলিটিশিয়ানদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।”
শুধু এতটুকুতেই থেমে না গিয়ে আরও বললেন, “আমাদের তো এখন আর কোনো অধিকারই নেই। প্রতিবাদ জানাতেও ভয় হয়। রাস্তায় নেমে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে দু’চারটি কথা বলব তাতেও ভয়।”
ফার্মগেইটে অন্তত দুই ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকার কথা জানালেন এই পল্লব।
ফার্মগেইট থেকে হেঁটে বিজয় সরণির পথধরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু হেনা বললেন, “এ সব নিয়ে কিছু বলেও কোনো লাভ নেই। যাদের ক্ষমতা আছে তারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে, জনগণের কথা কেউ ভাবে না।”
একই স্থানে গণপরিবহনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাননি অনেকে। এদের কেউবা অপেক্ষায় থেকেছেন, কাউকেবা পায়ে ভরসা করে রওনা হতে দেখা গেছে গন্তব্যে।
জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়াদী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে সকাল ১০টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও অংশ নেন তিনি।
সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের গাড়ির বহর এবং প্রধানমন্ত্রীর চলাচল- এই ‘দুই কারণে’ শাহবাগ, বাংলামোটর, সোনারগাঁও সিগন্যাল, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেইট, বিজয় সরণি, মহাখালী, কাকলী, বিমানবন্দর সড়কসহ ঢাকায় ঢোকার সব প্রধান সড়কই যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে।
গাবতলী, টেকনিক্যাল, মিরপুর রোডেও দেখা গেছে একই চিত্র।
মহাখালী এলাকায় কর্মরত ট্রাফিক পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিনকে যানজটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উড়াল সড়কের উপরে থমকে থাকা যানবাহনের সারির দিকে ইঙ্গিত করেন।
“দেখতেই তো পাচ্ছেন পরিস্থিতি। দুপুর দেড়টা থেকে এ অবস্থা। কোনো গাড়িই ভেতরে পাস করানো যাচ্ছে না।”
এদিকে আওয়ামী লীগের সমাবেশ শুরুর পরপর তেজগাঁও থেকে ফার্মগেইটের রাস্তার উল্টোপাশে প্রায় ২০টির মতো মটরসাইকেলে তিনজন করে যেতে দেখা যায়, যাদের কারোরই হেলমেট ছিল না। আর তারা যাচ্ছিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে।
এভাবে আইন অমান্য করে চলাচল করার পরেও তাদের আটকানো হল না কেন জানতে চাইলে দায়িত্বরত একজন ট্রাফিক পুলিশ বলেন, “এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না, যা জিজ্ঞেস করার ডিসি স্যারকে জিজ্ঞেস করুন।”
বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নেতা-কর্মীবাহী বেশকিছু বাস যেতে দেখা যায় সড়কের উল্টোপাশ দিয়ে; যেগুলো থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ভেসে আসছিল।
রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও এসব বাসের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলামোটর এলাকার ট্রাফিক পরিদর্শক বজলুর রহমান বলেন, “সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রচুর বাস, ট্রাকে নেতা-কর্মীরা এসেছেন। এ কারণে পুরো এলাকায় জট লেগেছে। কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারছে না।”
ওই এলাকায় যানজট সামলাতে গলদঘর্ম এক কনস্টেবল বলে ওঠেন, “মানুষর কথা কেউ ভাবে না। এরকম সমাবেশ ছুটির দিনে করলে কী ক্ষতি হত?”


