বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

২৩ বছরে বাংলাদেশে ২৭ সাংবাদিক খুন

journalist-killed-1412535556-5561বাংলাদেশে ১৯৯২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৭ জন সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্সারকে হত্যা করা হয়েছে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন কমিটি টগ প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এ তথ্য জানিয়েছে। সিপিজের মতে, হত্যাকা-গুলোর মধ্যে কিছু ঘটনার কারণ বা উদ্দেশ্য (মোটিভ) জানা গেছে, বাকিগুলোর তাও জানা যায়নি।

যাদের হত্যা করার ‘উদ্দেশ্য নিশ্চিত’ হওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিপিজে, তাঁরা হলেন- নিলয় নীল (ফ্রিল্যান্স), অনন্ত বিজয় দাস (ফ্রিল্যান্স), ওয়াশিকুর রহমান বাবু (ফ্রিল্যান্স), অভিজিৎ রায় (ফ্রিল্যান্স), সদরুল আলম নিপু (দৈনিক মাথাভাঙ্গা), আহমেদ রাজীব হায়দার (ফ্রিল্যান্স), জামাল উদ্দিন (গ্রামের কাগজ), গৌতম দাস (সমকাল), শেখ বেলাল উদ্দিন (সংগ্রাম), কামাল হোসেন (আজকের কাগজ), হুমায়ুন কবীর (জন্মভূমি), মানিক সাহা (নিউ এইজ), শুকুর হোসেইন (অনির্বাণ), হারুনুর রশীদ (পূর্বাচল), নহর আলী (অনির্বাণ), শামসুর রহমান (জনকণ্ঠ), মীর ইলিয়াস হোসেন (বীরদর্পণ), সাইফুল আলম মুকুল (রানার) এবং মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (নীলসাগর)।

সিপিজের মতে, ১৯৯২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আরো আটজন সাংবাদিক খুন হয়েছেন, যাঁদের হত্যার উদ্দেশ্য এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তাঁরা হলেন- নুরুল ইসলাম ফারুকী (চ্যানেল আই), শাহআলম সাগর (অপরাধ দমন), মেহেরুন রুনি (এটিএন বাংলা), গোলাম মোস্তফা সারোয়ার (মাছরাঙা), দীপঙ্কর চক্রবর্তী (দুর্জয় বাংলা), সৈয়দ ফারুক আহমেদ (পূবালী বার্তা), আহসান আলী (ফ্রিল্যান্স) ও এস এম আলাউদ্দিন (অগ্রদূত)।

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, যেসব সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে তা তাঁদের কাজ সংক্রান্ত কি না তা জানতে এ সম্পর্কে তদন্ত করে সিপিজে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় যে, নিজের কাজ করার জন্য ওই সাংবাদিকদের হত্যা করা হয়েছে কি না, যুদ্ধের সময় বন্দুকযুদ্ধের মাঝে পড়ে নিহত হয়েছেন কি না, অথবা কোথাও কোনো আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন কি না। সিপিজের তথ্যভা-ারে সড়ক বা বিমান দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিকদের তথ্য রাখা হয় না।

যখন কোনো সাংবাদিকের হত্যার মোটিভ পাওয়া যায় না, অর্থাৎ তিনি তাঁর কাজের জন্য খুন হয়েছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায় না, তখন সিপিজে এই ধরনের ঘটনাকে ‘অপ্রমাণিত’ ধরে নিয়ে তাঁদের তদন্ত জারি রাখে। তাদের গবেষণার অংশ হিসেবে এসব ঘটনার তদন্ত চলতে থাকে।

এর মধ্যে আজ সোমবার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তি অবসান দিবস উপলক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি ফেডরিকা মোঘেরনি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ মানে শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়। এর মানে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ।’

বাংলাদেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের পাঠানো ওই বার্তায় ফেডরিকা আরো বলেন, গণমাধ্যম হলো সমাজের আয়না। যদি তারা মুক্ত থাকে এবং সমালোচনা করে তাহলে আমরা স্বাধীন এবং নিরাপদ থাকি।

যখন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তি অবসান দিবস পালন করা হচ্ছে ঠিক সে সময়ই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। ফেডরিকা বলেন, ‘ইইউ আশা করে রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত করবে এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন