মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এমন অবস্থায় তার স্বাস্থ্য আরো সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনার জন্য সরকার দায়ী হবে। দেশবাসী ছাড়বে না। বলছে, ফখরুলের দল বিএনপি।
নাশকতার তিন মামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই সংবাদ সম্মেলন রিপন বলেন, ‘সরকারকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, মির্জা আলমগীর জটিল রোগে আক্রান্ত একজন মানুষ। কারান্তরীণ অবস্থায় তার স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে বলে তার চিকিৎকরা অভিমত দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তার স্বাস্থ্য আরো সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সরকারকে দেশবাসী দায়ী করবে।’
নাশকতার তিন মামলায় মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমার্পনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপির আন্দোলনের মধ্যে গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের পর গ্রেপ্তার হন ফখরুল। এরপর নাশকতার সাতটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর মধ্যে পল্টন থানায় গাড়ি পোড়ানো, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় গত ১৬ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন পান মির্জা ফখরুল।
এরপর পল্টন থানার দুটি এবং মতিঝিল থানার এক মামলায় ১৮ জুন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত তাকে জামিন দেয় হাই কোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে সেখানেও ফখরুলের জামিন বহাল থাকে।
আর পল্টন থানার ওই তিন মামলায় গত ২১ জুন হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফখরুলের জামিন মঞ্জুর করে। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে আদালত পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড করে ফখরুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে দেওয়ার পর ১৩ জুলাই তিন মামলায় জামিন পান মির্জা ফখরুল। এরপর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান তিনি।


