বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

স্বল্পমূল্যে জলবিদ্যুৎ আনতে ভুটানের সম্মতি

current20150509172337ভুটান থেকে স্বল্পমূল্যে জলবিদ্যুৎ আনতে চায় বাংলাদেশ। যেখানে সম্মতি দিয়েছে ভুটানও। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করা ভুটানের অর্থ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা চুক্তি’র মাধ্যমে ভুটান থেকে বিদ্যুৎ এনে ঘাটতি পূরণের আশা করছে বাংলাদেশ।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন- আঞ্চলিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিজস্ব উৎপাদন বাড়াতে না পারলে, বিদ্যুৎ খাত ভবিষ্যতে পুরোপুরি আমদানি নির্ভর হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। ২০১৩ সালের অক্টোবরে ভেড়ামারার এই সাব-স্টেশনটির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ।

ভারতের মতো করে এবার বন্ধুরাষ্ট্র ভুটান থেকেও বিদ্যুৎ নিয়ে আসার পরিকল্পনা বাংলাদেশের। গত মাসের শেষ নাগাদ ভেড়ামারার গ্রিড স্টেশন পরিদর্শন করে স্বল্পদামে বিদ্যুৎ চুক্তির আশ্বাস দিয়েছেন ভুটানের মন্ত্রী লিয়নপো ওয়াংচুক। পাশাপাশি বাংলাদেশও আশা করছে ভুটানের বিদ্যুতে ভবিষ্যৎ ঘাটতি মোকাবেলার।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘নেপাল এবং ভুটানে প্রায় ৮০ হাজার মেগাওয়াট হাইড্রোপাওয়ার ক্যাপাসিটি বিল্ডআপ করা সম্ভব। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ থেকে কিছু অংশ যদি বাংলাদেশে আনতে পারি তাহলে আমরা ভবিষ্যতে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে পারব।’

ভুটানের অর্থ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী লিওনপো নরব্যু ওয়াংচুক বলেন, ‘আমাদের দেশে জলবিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিদ্যুৎ যেমন মানসম্মত, তেমনি সস্তা। বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দিতে ভুটান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

জাতীয় উন্নয়নকে বিকশিত করতে সরকারি নীতি এখন আমদানি করা বিদ্যুতের উপর। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন আমদানি করা এই বিদ্যুতে বাংলাদেশের অগ্রগতি অন্যদিকে বিশ্লেষকদের পরামর্শ ভবিষ্যতে বিদ্যুতের মত স্পর্শকাতর এই খাতটি যাতে আমদানি নির্ভর না হয়ে পড়ে সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে নীতি নির্ধারকদের।

মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশ্লেষকদের দাবি- কয়লা ভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে সক্ষমতা বাড়াতে পারলে, আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব। জ্বালানি নিরাপত্তার খাতিরেই নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলেও মত বিশ্লেষকদের।

আরও পড়ুন