পোশাক শিল্প সংস্কারের জন্য প্রাথমিক পরিদর্শন কার্যক্রম শেষে দ্বিতীয় ধাপের মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। প্রথম ধাপে চিহ্নিত ত্রুটি সংশোধনের কর্মপরিকল্পনা (ক্যাপ) দেয়া হচ্ছে কারখানাগুলোকে। তবে তা পরিপালনে গড়িমসি করছেন শতাধিক কারখানা মালিক। এ রকম এক ডজন কারখানার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ভাবছে উত্তর আমেরিকার ক্রেতাজোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি।
গত সপ্তাহে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নতুন পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে প্রথম সভা করে অ্যালায়েন্স। এতে সার্বিক মূল্যায়ন পরিস্থিতির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া অ্যালায়েন্স নির্দেশিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কারখানা কর্তৃপক্ষের অনীহার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সভায় ২৩টি কারখানার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তাদের তালিকা দেন অ্যালায়েন্স প্রতিনিধিরা।
সূত্র অনুযায়ী, ২৩টি কারখানার ১১টিই বাণিজ্যিক ভবনে স্থাপিত। বিদ্যমান স্থানে উৎপাদন কার্যক্রম চালাতে পারবে না কারখানাগুলো। এর মধ্যে ছয়টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকার মনোনীত রিভিউ কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি ১২টি কারখানার সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনায় গাফিলতি রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছেদ করা হবে বলে জানিয়েছে অ্যালায়েন্স।
এ প্রসঙ্গে অ্যালায়েন্সের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, গত ৭-১৩ মাসে ১১টির মধ্যে পাঁচ কারখানা কর্তৃপক্ষ উৎপাদনক্ষেত্র স্থানান্তরের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ছয়টি কারখানার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রিভিউ কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি ১২টি কারখানার সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি খুবই কম। এ অবস্থা চলতে থাকলে ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছেদই হবে শেষ পরিণতি।
জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অ্যালায়েন্স বেশকিছু কারখানার তালিকা দিয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমরা সময় চেয়েছি। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট কারখানার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাগিদ দেয়া হবে।’
সূত্রমতে, কারখানার ত্রুটি সংস্কারে অগ্রগতি নেই এমন কারখানার বিরুদ্ধে ক্রেতাদেরও কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাবে অ্যালায়েন্স। এর পর যদি ত্রুটি সংশোধন ও সংস্কার না হয়, তাহলে কারখানার সঙ্গে ক্রেতাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হবে।
শনাক্ত হওয়া ত্রুটি সংস্কারে ব্যয়ের আনুমানিক একটি হিসাব সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে অ্যালায়েন্স। ব্যয়ের এ পরিমাণ আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ ডলার। এখন পর্যন্ত অ্যালায়েন্স সদস্যরা সরবরাহকারী কারখানায় ১০ কোটি ডলার দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ফিন্যান্স করপোরেশন থেকে ৫ কোটি ডলার ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইউএসএআইডি থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার ঋণ সুবিধার কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
অ্যালায়েন্সের তালিকাভুক্ত কারখানার সংখ্যা ছয় শতাধিক। পরিদর্শন করা কারখানায় সংস্কারের অগ্রগতিও উঠে এসেছে অ্যালায়েন্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, সংস্কার প্রয়োজন এমন স্থাপত্য ত্রুটি রয়েছে প্রতি কারখানায় ১৭টি। এছাড়া অগ্নি ত্রুটি রয়েছে ৩২টি ও বৈদ্যুতিক ত্রুটি ৩৭টি।


