বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপিরা: ইসির নয়া বিধি

photo-1446724917পৌরসভা নির্বাচনে নিজ দলের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা (এমপি)। নির্বাচন কমিশন বলছে, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হবে তাই নির্বাচনী আচরণবিধিতে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী-এমপিদের জন্য প্রচারণার সুযোগ রাখা হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ এ কথা বলেন।

শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধিতে সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যাতে প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন এমন একটি বিধান রাখছি।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের খসড়া আচরণবিধিতে সরকারি সুবিধাভোগী বলতে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাঁদের সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়রকে বোঝানো হয়েছে। যেহেতু দলীয়ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেভাবে তারা অংশ নিতে পারেন, স্থানীয় নির্বাচনেও সেভাবে অংশ নেবেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা সরকারি সুবিধা নিয়ে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।’

শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে পূর্ব থেকে যেভাবে তাঁরা অংশ নেন, স্থানীয় নির্বাচনেও একই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দলের সদস্যরা বা সুবিধাভোগীরা সুবিধা বাদ অংশ নিতে আগেও পারতেন, এখনো তাই রাখা হয়েছে। কাজেই নতুন কিছু আনা হয়নি।

মনোনয়নের বিষয়ে কমিশনার শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘দলগুলো প্রথমে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেবে। তারপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে বলে দেবে, কে তাদের প্রার্থী। এতে বাকিগুলোর প্রার্থিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘আগে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জুড়ে দিতে হতো। এটা কষ্টকর হয়। তাই যেসব পৌরসভায় ৫০ হাজারের উপরে ভোটার রয়েছে, সেসব পৌরসভার মেয়র প্রার্থীদের জন্য ২০০ জন ভোটারের স্বাক্ষর এবং নিচে হলে ১০০ জন ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জুড়ে দেওয়া বিধান আনা হচ্ছে। আর কাউন্সিলরদের জন্য ২০ জন ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জুড়ে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।’

শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন (পৌরসভার) আইন সংশোধনের নতুন অধ্যাদেশ হয়েছে, সেই আলোকেই বিধি তৈরির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে তা ভেটিং (অনুমোদন) হয়ে এলেই বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে। এর পরই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করব।

শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘ডিসেম্বরের শেষে নির্বাচন করব। আগামী সপ্তাহে বিধি ভেটিং (অনুমোদন) হয়ে এলে তফসিল ঘোষণার জন্য আলোচনায় বসব। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে সব ব্যবস্থাই আমরা নেব। তফসিল ঘোষণার আগেও তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসব, পরেও বসব।’

আরও পড়ুন