বিয়ে করা সেই দুই বান্ধবী সাবিনা আকতার ও ইতি আকতারের ১০ মাসের সংসার জীবনের ইতি ঘটল । বুধবার ৪ নভেম্বর রাতে সাবিনা আকতার তার স্বামী ইতি আকতারকে তালাক দেন। বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের সরকারি বিবাহ নিবন্ধক (কাজী) আব্দুল কাদের তালাকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইতি আকতার (পরবর্তীতে ইদ্রিস আলী নাম নিয়েছিলেন) সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের কোয়ালীপাড়া গ্রামের সোনা মিয়ার মেয়ে। আর সাবিনা আকতার পার্শ্ববর্তী দিঘলকান্দী গ্রামের আমজাদ হোসেনের মেয়ে।
তালাক দেয়ার পক্ষে সাবিনা আকতারের যুক্তি, বিয়ের পর প্রথম রাতেই স্বামী ইদ্রিস আলী তাকে জানিয়েছিলেন সে এখনও পূর্ণাঙ্গ পুরুষে রূপান্তরিত হয়নি। সে কারণে তাদের মধ্যে অন্তত পাঁচ বছর প্রকৃত দাম্পত্য কাজ করা যাবে না। সাবিনা আরো বলেন, এভাবে কিছুদিন চলার পরে সন্দেহ হলে জোর করে স্বামীকে দেখেন সে এখনও নারীই থেকে গেছে।
সাবিনার অভিযোগ, তার স্বামী ইতি আকতার (ইদ্রিস আলী) কখনই পুরুষে রূপান্তরিত হয়নি। সে আগে যা ছিল এখনও তাই আছে। প্রতারণার মাধ্যমে সে বিয়ে করেছে। সাবিনা আরো জানায়, তার স্বামী পুরুষ কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে ও প্রতারণার বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু গত এক মাসেও কোনো সুরাহা হয়নি। সাবিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক নারী হয়ে তো অন্য নারীর সঙ্গে সংসার করা যায় না। এ কারণে তাকে তালাক দিয়েছি।
এ ব্যাপারে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শিবগঞ্জ ইউএনও আমিনুর রহমান জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। সোনাতলার ইউএনও দেশে ফিরলে জানা যাবে।
গত বছর সৈয়দ আহম্মদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী থাকা অবস্থায় ইতি আকতার (১৯) নারী থেকে পুরুষে রূপান্তরিত হয়েছে বলে দাবি করেন। এরপর তিনি মাথার চুল কেটে পুরুষের পোশাক পরে বেড়ানো শুরু করেন। সেই সময় তার নামও পাল্টে রাখা হয় ইদ্রিস আলী। এ ঘটনার পরে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও একই কলেজের ছাত্রী সাবিনা আকতারকে (১৯) বিয়ের প্রস্তাব দেন। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর রাতে স্থানীয় মুলবাড়ি ঈদগাহ মাঠের ঈমাম ও ফাজিলপুর গ্রামের মাওলানা আবু মুসার বাড়িতে দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে পড়ানো হয়। এক লাখ টাকা দেনমোহরে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


