হালুয়াঘাট থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ময়মনসিংহের ভালুকায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে পেছনে থেকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে ৭ জন নিহত হয়েছেন। ভালুকার মেহেরবাড়ীতে শনিবার সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন মহিলা রয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৫ জনেরও বেশি। আহতদের গাজীপুর ভালুকা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভালুকা থানার সহকারী পরিদর্শক (এস আই) সাইদুর রহমান জানান, হালুয়াঘাট থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ভালুকার মেহেরাবাড়ী এলাকায় রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়া বাসটি উল্টে গিয়ে পাশের ধানক্ষেতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় বাসযাত্রীদের দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার সময় মারা যান বাকি ৫জন। দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন- ভালুকা পৌরসভার ফজলুল হক (৪৫) ও রফাজ উদ্দিন (৪০), ত্রিশাল উপজেলা সদরের আব্দুল মোতালেব (৪২), নিলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার নওশেদ (৩৫)। এবং নারীসহ অপর দু’জনের নাম জানা যায়নি।
ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, হালুয়াঘাট থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৩৬৬৬) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে ভালুকা উপজেলার মেহেরাবাড়ি পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালুবোঝাই ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এরপর বাসটি রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়ে। ঘটনাস্থলে ভালুকা পৌরসভার ভাণ্ডাব গ্রামের ফুরকান আলীর ছেলে ফজলুল হক ও অজ্ঞাত এক নারী (৩০) নিহত হন।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে গুরুতর আহত ১৯ জনকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদের মধ্যে ৬ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে ত্রিশাল উপজেলা সদরের আব্দুল মোতালেব, রফাজ উদ্দিন, নিলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার নওশেদসহ চারজন মারা যান।


