বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বর: কারো কাছে নন্দিত, কারো নিন্দার দিন

biplobবাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন সাত নভেম্বর। ঘটনাবহুল এই দিনটির তিন দিন আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো সরকার ছিল না বললেই চলে। বন্ধ ছিল রেডিও-টেলিভিশন। দিনভর অন্ধকারে ছিল সাধারণ মানুষ।

এই দিনের ঘটনা নিয়ে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে কর্মসূচি পালন করে থাকে। কেউ দিনটিকে নিন্দা জানায়, কেউবা অভিনন্দন জানিয়ে কর্মসূচি পালন করে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি এবং জাসদ প্রায় কাছাকাছি মতাদর্শ থেকে দিনটিকে পালন করে। তবে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অবস্থান পুরোপুরি বিপরীত।

৭ নভেম্বর বিএনপি পালন করে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে। জাসদ পালন করে ‘সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান’ দিবস হিসেবে। আওয়ামী লীগ দিনটিতে আলাদা কোনো কর্মসূচি পালন না করলেও ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে অভিহিত করে থাকে।

৭ নভেম্বর বিষয়ে জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘সাত নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান দিবস। এই দিবসটিকে যারা অন্য নামে অভিহিত করেন তারা সাত নভেম্বরের তাৎপর্য বুঝতে অক্ষম। দেশকে আত্মঘাতী গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচাতে, বঙ্গবন্ধুর খুনী চক্রকে ক্ষমতাচ্যুত ও পুনর্বার ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে সাত নভেম্বর ছিল সিপাহী জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। এই প্রচেষ্টা সফল হলেও এর ফল ঘরে তোলা যায়নি জিয়ার পাল্টা চক্রান্তের কারণে।’

হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, ‘তৎকালীন অচলাবস্থা নিরসনে সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক যাত্রার স্বাভাবিক পথে উত্তরণের জন্য এই বিপ্লব হয়েছিল। সেই বিপ্লবের নায়ক ছিলেন তাহের, খলনায়ক ছিলেন জিয়া।’

৭ নভেম্বরের ৮৪ দিন আগে (১৫ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু সরকারের বিপরীতে অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান সংঘঠিত হয়। এরপর ৭ নভেম্বর তিনি নিহত হন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ৭ নভেম্বর প্রসঙ্গে বলেন, ‘সাত নভেম্বরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১৫ আগস্ট থেকে। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে তারাই জাতীয় চার নেতাকে হ্ত্যা করেছে। নিজেদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে এরাই আবার সাত নভেম্বর ঘটিয়েছে সেনাবাহিনীর মধ্যে থাকা ‍মুক্তিযুদ্ধের সৈনিকদের হত্যা করার জন্য। তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা একটা কালো দিন।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘এই দিনটি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিন। এই দিনের সঙ্গে আমরা ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৬ই ডিসেম্বর, ২৬শে মার্চ এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মিল খুঁজে পাই। কাজেই সাত নভেম্বর ব্যর্থ হলে মুক্তিযুদ্ধ ব্যর্থ হতো।’

‘সাত নভেম্বরকে অস্বীকার করা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে অস্বীকার করার শামিল। সিপাহী-জনতা সাত নভেম্বরের সৃষ্টি করেছিলেন। তাদের বিপ্লবের কারণেই জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতা বসানো হয়েছিল’ যোগ করেন নোমান।

সাত নভেম্বর উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্মসূচি পালন করে থাকে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দিনটি সরকারি ছুটির দিন ছিল। এখন ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় না।

আরও পড়ুন