স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, মনোনয়ন ও প্রতীকে পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা তৃণমূলে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করবে। দলগত অংশগ্রহণ ছাড়াও অধিকহারে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে।
রোববার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোটার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) সংলাপ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের কিছু প্রশ্নের জবাব দেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে। আইন-শৃংখলা বাহিনী সার্বিক পরিবেশ স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এটাকে কেউ কেউ ধরপাকড় বলছে। তবে প্রক্রিয়ায় স্থানীয় কোন্দলে কেউ গ্রেফতার হলে তা নিয়ে রাজনীতি টেনে আনা ঠিক হবে না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কাজটা করছে, তা পূর্ব-রেকর্ড থেকেই করছে। কারণ, সমাজে আমাদের শান্তি প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে নেয়ার প্রচেষ্টা ভণ্ডুল করার লোকের অভাব নেই।’
মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানি বেশি ব্যবহার করায় পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানি বিপদজনক পর্যায়ে চলে গেছে। এখন ভূ-উপরি তলের পানি ঘিরে পানি সরবরাহ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগে পুকুরের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হতো। সেগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে। এরই মধ্যে তালিকা করা হয়েছে। সেগুলো পুনর্খননের প্রকল্প নেয়া হবে। গ্রামাঞ্চলে প্রতি ৭৫ জনের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা থাকবে-এটা পুকুর খনন কিংবা ডিপটিউবওয়েলের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ সড়কগুলো আগামী তিন বছরের মধ্যে পাকা করা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গ্রামীণ সড়কের দৈর্ঘ্য তিন লাখ ১০ হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে দেড় লাখ কিলোমিটার পিচঢালাই করা হয়েছে।’
সমবায় সংগঠন মিল্কভিটাকে সারা দেশে সম্প্র্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘একটি বাড়ি একটি খামার’কে এ কর্মসূচির মাধ্যমে সঞ্চয়কে ব্যাপকভাবে উত্সাহিত করা গেছে। বর্তমান কর্মসূচির মেয়াদ শেষে অবশ্যই নতুন করে পাঁচ বছরের জন্য কর্মসূচি নেয়া হবে।’
মামলা দিয়ে একের পর এক বিএনপির মেয়রদের বরখাস্ত করা হচ্ছে-এ অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আইনে আছে যদি কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয় তিনি আর ওই পদে থাকতে পারবেন না, সাময়িক বরখাস্ত হবেন। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
উপজেলা পর্যায়ে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা উত্তোলনে ইউএনওর স্বাক্ষর নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘শিগগির উপজেলা পরিষদে সহকারী কমিশনার (অর্থ) নিয়োগ দেয়া হবে। তখন এ সমস্যা থাকবে না।’
বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি শ্যমল সরকারের সভাপতিত্বে এবং সঞ্চলানায় অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ কাদের সরকার ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।


