মিয়ানমারে দীর্ঘ ২৫ বছর পর সব দলের অংশগ্রহণে সাধারণ নির্বাচন কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদে ভোটগ্রহণ শন্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থি অং সান সুচির দলের কাছে পরাজয় মেনে নিয়েছে সেনাসমর্থিত ক্ষমতাসীনরা। ২০১১ সাল থেকে সেনা ছত্রছায়ায় ক্ষমতায় থাকা ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক পার্টির (ইউএসডিপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাই উ সোমবার রয়টার্সকে বলেন, “আমরা হেরে গেছি।”
রোববার অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ এ নির্বাচনের ফল সোমবার দুপুর পর্যন্ত প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) দাবি, মধ্যাঞ্চলের জনবহুল এলাকায় পড়া ভোটের ৮০ শতাংশই তারা পেয়েছে।
নির্বাচনে সুচির দল বিপুল বিজয় পাবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদেরও।
প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এনএলডির মুখপাত্র উইন হতেইন রয়টার্সকে বলেন, মধ্যাঞ্চলের বাইরে মন ও কেইন রাজ্যে পড়া ভোটের ৬৫ শতাংশ পেয়েছে সু চির দল। তবে বাকি পাঁচ রাজ্যের ফল এখনও জানা যায়নি।
৫০ বছরের বেশি সময় ধরে সামরিক কর্তৃত্বের অধীনে থাকা মিয়ানমারের তিন কোটি ভোটারের মধ্যে ৮০ শতাংশ রোববার তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারণে ভোট দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।
এই নির্বাচনকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গণতন্ত্র পন্থী নেত্রী অং সাং সুচির দল এনএলডি’ই অধিকাংশ সংসদীয় আসনে বিজয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনে জিতলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। তবুও সব কিছু উপেক্ষা করে নির্বাচন শেষে হলে সুচির সমর্থকরা এনএলডি প্রধান কার্যালয়ের সামনে উল্লাস করতে থাকে। আগেই দলের পক্ষ থেকে সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশটিতে সেনাবাহিনীর জন্য ২৫% আসন সংরক্ষিত থাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য সুচির দলকে ৬৭ শতাংশ আসনে জয়ী হতে হবে। ১৯৯০ সালে সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হলেও সুচিকে ক্ষমতায় যেতে দেয়নি সেনাবাহিনী। পরের ২০ বছর বেশিরভাগ সময় সুচিকে গৃহবন্দী থাকতে হয়।


