দীর্ঘকাল সেনাশাসনে থাকা মিয়ানমারে ২৫ বছর পর ঐতিহাসিক নির্বাচনে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) জয়ের পথে থাকলেও সাংবিধানিক বাধার কারণে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না দলটির নেত্রী অং সান সুচি। কারণ সুচির দুই সন্তান ব্রিটিশ নাগরিক। ২০০৮ সালে দেশটিতে সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী বিদেশি কাউকে বিয়ে করলে বা সন্তানরা বিদেশি পাসপোর্টধারী হলে সেই ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হতে পারবেন না।
ধারণা করা হচ্ছে, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ৮৮ বছর বয়সী সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী উ থিনকেই প্রেসিডেন্ট করতে পারেন সুচি। তবে প্রেসিডেন্ট যিনিই হোক না কেন, মূল ক্ষমতা সুচির হাতেই থাকবে বলে আগেই আভাস দিয়েছেন সুচি।
গত বৃহস্পতিবার ইয়াংগুনে শান্তিতে নোবেল জয়ী সুচি বলেছিলেন, ‘এনএলডি যদি নির্বাচনে জয়ী হয় তবে প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও তার ওপরে থেকে আমি দায়িত্ব পালন করব। এটা খুবই সাধারণ একটি বার্তা। সংবিধানের কোন কিছুই আমাকে এটা করা থেকে বিরত করতে পারে না।’
তবে মিয়ানমারের সংবিধানের ৫৮ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, প্রেসিডেন্ট দেশের সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে থাকবেন।
মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট মনোনীত করবে। উচ্চকক্ষ, নিম্নকক্ষ ও অনির্বাচিত সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা একজন করে নেতা মনোনীত করতে পারবেন। তিন ক্ষেত্রেই যিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন তিনি প্রেসিডেন্ট ও অপর দুই জন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


