ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন হওয়ার কথা। কিনতু দলের বর্তমান অবস্থা দেখে সন্মেলন আদৌ হবে কি না তাতে সন্দেহ রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। সাধারণত কেন্দ্রের কাউন্সিল অধিবেশন হওয়ার পূর্বে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সন্মেলন সম্পন্ন করার কথা এবং এসকল সন্মেলনে সাধারণত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে নুতন কমিটি গঠন করা হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সন্মেলনের পূর্বে একাজগুলো সম্পন্ন করতে হয়। যতটুকু জানা যায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত অনেক জেলায় সন্মেলন সম্পন্ন করতে পারেনি। অনেক জেলা কমিটির সাংগঠনিক কাজ চলছে পুরানো নেতৃত্বে। এমতাঅবস্থায় ডিসেম্বরে কি করে কেন্দ্রের কাউন্সিল অধিবেশন হবে সে প্রশ্নের উত্তর দলের কেন্দ্রীয় নেতারাই একমাত্র বলতে পারবেন। তবে ইতিমধ্যে আসছে কাউন্সিল অধিবেশনের তারিখ পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল হওয়াতে যেখানে সহজেই সন্মেলন সম্পন্ন করার কথা সেখানে দলটি সাংগঠনিক দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে বলতে হবে। এর প্রধান কারণ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা বলে পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন।
স্বাধীনতার পরবর্তিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকাকালীন জিল্লুর রহমান ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক। সেই সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এক জেলা থেকে আরেক জেলায় সফর করে বেরিয়েছেন। দলকে সক্রিয় করতে জেলায় জেলায় নুতন করে সন্মেলন করেছেন। পরবর্তিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে কেন্দ্রীয় সন্মেলন। সেদিক দিয়ে বিবেচনা করলে আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব পিছিয়ে আছে বলে অনেকে মনে করছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা এখন অত্যন্ত দুর্বল। শুধুমাত্র ক্ষমতায় আছে বলেই দলের নাম ডাক আছে। দলের এই দুরবস্থার জন্য তৃনমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দায়ী করলেও নেতারা তা মানতে রাজি নয়। এখন প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক দুরবস্থার জন্য তাহলে দায়ী কে?
আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং একইসাথে সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষে সরাসরিভাবে দলের সাংগঠনিক কর্মতত্পরতা সবসময় পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীকে বেস্ত থাকতে হয়। বঙ্গবন্ধু যখন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একইসাথে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন পরিস্থিতি এরকম ছিল না। তিনি সারা দেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যকলাপ তদারকি করার জন্য জিল্লুর রহমান, মনসুর আলী, কামরুজ্জামান, তাজউদ্দিন, সৈয়দ নজরুল, মহিউদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ সহ আরো কয়েকজন নেতার উপর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এসকল কেন্দ্রীয় নেতারা জেলায় জেলায় সফর করে দলে নুতন নেতৃত্ব সৃষ্টি করেছেন। ছাত্রলীগ, যুবলীগ থেকে আসা তরুণ নেতাদের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু এত বেস্ততার মধ্যেও তৃনমূল নেতাদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এছাড়া রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মতত্পরতা পর্যবেক্ষণ করে তাকে অবহিত করার জন্য তিনি তোফায়েল আহমেদকে তার রাজনৈতিক সচিব বানিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মতো তার কন্যা শেখ হাসিনাও হয়তো দলের সবকিছু দেখার জন্য কয়েকজন নেতার উপর দায়িত্ব দিয়ে থাকতে পারেন। তবে দলের বর্তমান অবস্থা দেখে এখন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কার্যকলাপ নিয়ে দলের ভেতরেই আসছে নানা প্রশ্ন। আসলেই কি তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন? অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো রাজনৈতিক সচিব নেই। তাকে একাই সব দিক দিয়ে সামলাতে হয়। একদিকে সরকার অন্যদিকে আওয়ামী লীগ। অনেকের মতে এই মুহুর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন বিশ্বস্থ রাজনৈতিক সচিবের প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর একজন রাজনৈতিক সচিব থাকলে তিনি দলের সাংগঠনিক অবস্থা জানার সুযোগ পাবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
এদিকে দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে রয়েছে দলে নেতিবাচক সমালোচনা। শুনা যায় বেক্তিগত কারণে তিনি নিজেও নাকি এই পদ থেকে এবার সরে দাড়াতে আগ্রহী। সৈয়দ আশরাফ দলের দু:সময়ে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার এই অবদানের কথা শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের ভুলার কথা নয়। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত বিশ্বস্থ লোক হিসেবে তিনি পরিচিত। শুনা যায় তিনি আসছে কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অন্য কারো কাছে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। সৈয়দ আশরাফ যদি এই দায়িত্বে আর না থাকতে চান তাহলে হয়তো তাকে সভাপতি মন্ডলীর সদস্য করা হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। সত্যি যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে সৈয়দ আশরাফ তার পদ থেকে সরে দাড়ালে কে হতে পারেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক? সিনিয়ার নেতা হিসেবে তোফায়েল আহমেদ এই পদে আসতে এখন আর আগ্রহী নয় বলে জানা যায়। আওয়ামী লীগের অনেকে বলছেন এই পদের জন্য এখন একমাত্র যোগ্য বেক্তি হলেন বর্তমান যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে ইতিমধ্যে মিডিয়ায় তিনি এই দায়িত্ব নিতে আপত্বি জানিয়েছেন। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দায়িত্ব নিতে না চাইলে এক সময়ের ছাত্রলীগ নেতা, যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধা রবিউল আলম মুক্তাদির চৌধুরী এম পির নাম সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাবেক এই বিসিএস কর্মকর্তা ৯৬ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিটির সভাপতি। দলের সাধারণ সম্পাদক না হলেও তাকে সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কিংবা দলের অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পরবর্তিতে তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ছিলেন যে কমিটির সদস্য ছিলেন সৈয়দ আশরাফ। আসছে কাউন্সিল অধিবেশনে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে এবার নুতন কোনো বেক্তির উপর দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দাবি এই দায়িত্ব অন্য কোনো দল থেকে আসা নেতার উপর যেন না দেওয়া হয়। এবেপারে শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। দলের নেতৃত্বে একটা পরিবর্তন আনলে দল চাঙ্গা হয়ে উঠবে বলে আওয়ামী লীগের শুভাকাংখীরা মনে করছেন। তবে তৃনমূল নেতা কর্মীদের দাবি সে নেতৃত্ব আসতে হবে প্রকৃত আওয়ামী লীগার থেকে।
বর্তমানে শেখ হাসিনা তার উপদেষ্টাদের পরামর্শে সকল প্রকার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন বলে পর্যবেক্ষক মহল ধারণা করছেন। প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টারা প্রায় সকলেই একসময় পাকিস্থান সরকারের আমলা ছিলেন। তারা কখনো সরাসরি রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন না। এসকল আমলাদের দলের কাজে হস্তক্ষেপের কারণেই আজ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পরছে বলে তৃণমূলের নেতারা দাবি করেন। এই কারণে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তত্পরতা রাজধানী ঢাকার মত ততটা শক্ত নয় বলে অনেকে মনে করছেন। ঢাকার বাহিরে বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের বেহাল অবস্থার কথা বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্বীকার না করে বাস্তবতাকে আড়ালে লুকিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে দলে। তবে দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূলের এই দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থার কথা অবহিত বলে অনেকে ধারণা করছেন। তাই হয়তো দলের এই বেহাল অবস্থার পরিবর্তন আনার লক্ষে শেখ হাসিনা আসছে কাউন্সিল অধিবেশনে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। দলের ভবিষ্যতের জন্য নেতৃত্বে একটা পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি বলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা কর্মীরা ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানিয়েছেন বলেও শুনা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ বিএনপি বর্তমানে যেখানে অবস্থান করছে সেখান থেকে তাদের আগের জায়গায় ফিরে আসা আর আদৌ সম্ভব হবে কি না তাতে সন্দেহ রয়েছে। তাদের কোনো সাংগঠনিক কর্মতত্পরতা কথাও আর নাই বললেই চলে। ইতিমধ্যে দলটি ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে বলে মিডিয়ায় খবর এসেছে। অনেকে দল থেকে স্বইচ্ছায় পদতেগ করছেন। দলের এই কঠিন সময়ে বিএনপি নেত্রীর দীর্ঘ সময় লন্ডনে অবস্থান দলের জন্য আরো সমস্যা সৃষ্টি করছে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন। সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এক ভাষণে ফেইস বুকের মাধ্যমে অন্দোলন করার আহবান জানিয়েছেন। প্রশ্ন আসতে পারে রাজপথে নয় কেন? এখানেই তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বিভক্ততার কথা। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসছে গ্রেফতারের ভয়ে যেভাবে তারেক রহমান দেশে না এসে দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থান করছেন বেগম খালেদা জিয়াও কি একই কারণে বাংলাদেশে আসছেন না? এবেপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সিনিয়ার নেতা জানান এগুলো মিডিয়ার কথা। আমাদের নেত্রী তার চিকিতসা শেষ হলেই দেশে ফিরে আসবেন। তবে তিনি স্বীকার করেন চেয়ারপারসনের লন্ডনে দীর্ঘ অবস্থান দলের ভেতরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এজন্য বিএনপি থেকে বের হয়ে অনেকের নুতন রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করার সম্ভবনা রয়েছে। তবে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া খুব শীঘ্রই দেশে ফিরে আসবেন বলে তিনি আশা করেন। এই কারণে হয়তো আওয়ামী লীগের ভেতরে থাকা সুযোগ সন্ধানী ও সুবিধাবাদীরা মনে করছেন বিএনপি এখন শেষ। এখন আমরা একাই একশো। আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এখন পাকাপোক্ত হয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ক্ষমতাসীন দল বলে এখন আওয়ামী লীগের ভেতরে চলছে নেতৃত্ব ও ক্ষমতার লড়াই, একে অপরের সাথে সংঘাত আর রাজনীতির নামে বানিজ্য। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও এমপিরা তাদের স্ব স্ব এলাকায় অবস্থান না করে এখন মাসের পর মাস পরে থাকেন রাজধানী ঢাকায়। এসকল নেতাদের তৃণমূলের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। ঢাকার সচিবালয়ে বসে কি করে আরো অর্থ কামানো যায় তা নিয়ে তারা দিনের পর দিন বেস্ত রয়েছেন বলে তৃণমূলের কর্মীদের অভিযোগ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এসকল নেতাদের স্ব স্ব এলাকায় যাওয়ার জন্য বার বার তাগাদা দেওয়া সত্বেও অনেকেই এখনো ঢাকাতেই অবস্থান করছেন বলে শুনা যায়। এদের কেউ কেউ নাকি নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এলাকায় যেতে নিরাপদ মনে করছেন না। এছাড়া একসময়ে যে সকল বামপন্থী নেতারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সরকারের কট্টর বিরোধিতাকারী ছিলেন ও রাজপথে সমালোচনায় সোচ্চার ছিলেন তাদের এখন মন্ত্রী সহ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলের ভেতরে অনেকেই অভিযোগ করে আসছেন। অন্যদিকে অনেক পুরানো আদর্শবান ও পরীক্ষিত নেতারা এখন দলে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। আওয়ামী লীগের আসল, পরীক্ষিত ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসীদের দুরে রাখা হয়েছে। সংস্কারপন্থী বলে দায়ীকৃত এসকল নেতারা এখনো আওয়ামী লীগের ধারে কাছে আসতে পারছেন না। তবুও তারা মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অবদানকে তুলে ধরে আওয়ামী লীগের আদর্শে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। সংস্কারপন্থী কিছু কিছু নেতাদের দলে টেনে আনা হলেও বেশিরভাগ নেতারা এখনো বাহিরে আছেন। আগামী কাউন্সিল অধিবেশনে এদের দলে নিয়ে আসা উচিত হবে বলে আওয়ামী লীগের শুভাকাংখীরা মনে করেন। তা না হলে সুযোগ সন্ধানী, সুবিধাবাদী ও অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে আসা নেতারাই একসময় দলের ভিতরে সংখ্যাগরিষ্ট ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে আওয়ামী লীগের আদর্শবান নেতা কর্মীরা দাবি করছেন।
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে এভাবে অন্য দলের লোকদের আওয়ামী লীগে এনে আওয়ামী লীগ আর কতদিন চলবে? তাই আজ দলের ভেতরে দাবি উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সরকারে তো থাকবে আওয়ামী লীগের নেতারা। আওয়ামী লীগ থাকবে আওয়ামী লীগারদের হাতে। অন্য দল থেকে ছুটে আসা সুযোগ সন্ধানী সুবিধাবাদী লোকদের হাতে নয়। কিন্তু বাস্তবে আজ তা না হয়ে হচ্ছে ঠিক তার উল্টো বলে অভিযোগ করছে আওয়ামী লীগের শুভাকাংখীরা। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখা উচিত বলে আজ দলের অনেকেই মনে করছেন। আসছে কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নেতৃত্বে সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ কৃষক লীগ সহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ সংগঠন থেকে নেতাদের দলের নেতৃত্বে আসার সুযোগ সৃষ্টি করলে দলের ভবিষ্যত অবস্থান আরো শক্ত হবে বলে দলের নেতা কর্মীরা মনে করছেন।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও ধর্ম নিরপেক্ষতার আদর্শে বিশ্বাসী বাংলাদেশের সংখাগরিষ্ঠ মানুষ চায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী অবস্থানে বিরাজ করুক। কিন্তু বর্তমানে দলটির সাংগঠনিক কর্মতত্পরতা যেভাবে চলছে তাতে দলটির ভবিষ্যত নিয়ে অনেকেই এখন চিন্তিত বলে জানা যায়। দলের তৃণ মূলের নেতা কর্মীদের মতে ২০১৯ নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগকে বর্তমান অবস্থান থেকে যে করেই হউক সামনের দিকে নিয়ে আসতে হবে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী কাউন্সিল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে একটা পরিবর্তন আনতেই হবে বলে তারা মনে করেন। দলের কর্মী ও নেতাদের ধারণা এধরনের একটি পরিবর্তন আনতে পারলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভালো ফলাফল করবে। সাবেক ছাত্রলীগের নেতাদের এখন আওয়ামী লীগের সামনের কাতারে নিয়ে আসার সময়। অন্য দল থেকে আসা রাজনিতিবিধদের আওয়ামী লীগে দায়িত্ব না দিয়ে নিজের দলের পরীক্ষিত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া উচিত বলে আওয়ামী লীগের শুভাকাংখীরা মনে করেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাত দিন পরিশ্রম করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে সংগ্রাম করছেন তার সবকিছুই মাত্র দুই একজন মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতাদের কার্যকলাপের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। এক শেখ হাসিনা যাবেন কোথায়? তিনি যেদিকে তাকান সেদিকেই শুধু খাই খাই নেতা কর্মীর চলাচল। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ এক সভায় নেতা কর্মীদের এই খাই খাই অবস্থান থেকে সরে আসার আহবান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক ভিশন সামনে এগিয়ে নেওয়ার পথে দুর্নীতি প্রধান অন্তরায় বলে ইতিমধ্যে তার একজন উপদেষ্টা পর্যন্ত মন্তব্য করেছেন। এর আগে বর্তমান সরকারের অর্থ মন্ত্রীও বলেছেন একই কথা। বঙ্গবন্ধু কন্যার সকল পরিশ্রম যাদের জন্য আজ বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া কেন হচ্ছে না এটাই আজ সকলের প্রশ্ন? জানা যায় এই কারণেই দলের কেন্দ্র থেকে তৃনমূল পর্যন্ত আদর্শবান কর্মীরা আগামী দিনে নুতন নেতৃত্ব সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি আত্বশুদ্ধির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এখন দলের ভেতরে চালাতে হবে শুদ্ধি অভিযান। সকলেই এখন তাকিয়ে আছে আওয়ামী লীগের আসছে কাউন্সিল অধিবেশনের দিকে। দলে কি আসবে কোনো পরিবর্তন কিংবা শুদ্ধি অভিযান? নাকি যে যেখানে আছেন সেখানেই অবস্থান করবেন? আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার একটা কিছু করবেন বলেই আওয়ামী লীগের শুভাকাংখীরা আশা করছেন।
সুইডেন প্রবাসী কলাম লেখক



