সাইবার ক্রাইম ঠেকাতে কিছুদিনের জন্য প্রয়োজন হলে ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করা হবে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরপর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এ কথা জানান।
এর আগে নেদারল্যান্ড সফর শেষে ফিরে গত রোববার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দেন, জঙ্গিদের যোগাযোগ ও অর্থায়ন বন্ধে তাদের শনাক্ত করতে কিছু ‘অ্যাপ’ বন্ধ করাসহ ইন্টারনেটের ওপর ‘সাময়িক কড়াকড়ি’ আরোপ করা হবে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যা ও হামলার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটালাইজেশনের ‘শুভফল’ যেমন আছে, ‘খারাপ ফলও’ আছে। এতো বেশি আমরা সেই থ্রি-জিতে, ফোর-জিতে চলে গেছি…ইন্টারনেট-ভাইবার থেকে শুরু করে নানা ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে এই জঙ্গিরা তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।”
এ ধরনের জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দেখব, এটা যদি খুব বেশি-ই করে, হয়তো একটা সময়ের জন্য, কিছু দিনের জন্য অন্তত এটা আমরা বন্ধ করে দিয়ে… এই লিংকগুলি যাতে ধরা যায়।”
চলতি বছরের শুরুতে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের সময়ও ‘ভাইবার’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ’সহ ইন্টারনেটে যোগাযোগের কয়েকটি মাল্টিমিডিয়া অ্যাপ কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
তখন পুলিশ বলেছিল, নাশকতাকারীরা মোবাইল ফোনে কথা না বলে ইন্টারনেটভিত্তিক এসব অ্যাপ ব্যবহার করায় তাদের ধরতে সমস্যা হচ্ছে।
সম্প্রতি দুই বিদেশি হত্যা ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার ঘটনায় আইএস দায় স্বীকার করেছে বলে একটি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট বার্তা দিলেও সরকার বলছে এর কোনো ভিত্তি নেই।
এ ধরনের হামলার পেছনের যারা রয়েছে, তাদের অনেককেই চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অর্থায়ন মূলত একটি দল করছে, আর মাঠে খুন খারাবির কাজ আরেকটা দল করছে। এর বেশ কিছু তথ্য আছে, আরও তথ্য জোগাড় করার চেষ্টা হচ্ছে।”


