শুক্রবার ৬ নভেম্বর ২০২৬

‘মানুষের আস্থার জবাব দিন বন্ধুর মতো পাশে থেকে’

PM Picফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করছে বলেই এ বাহিনী জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। তাই জনগণের এই আস্থার জবাব বন্ধুর মতো পাশে থেকে এ বাহিনী দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান।

বুধবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে এ আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, “সীমিত সম্পদের মাঝেও আমাদের সরকার ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট। আপনারা জানেন, আপনাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। যে কোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় আপনারা জনগণের পাশে দাঁড়াবেন, বন্ধুর মতো সেবা দেবেন।”

মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্সে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী যে কোনো দুর্যোগের পর উদ্ধার কর্মকাণ্ডের জন্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে উদ্ধার কাজে বিশেষ দল গঠনের তাগিদ দেন।

এবারের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য ‘দুর্যোগ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাসে প্রয়োজন জনসচেতনতা ও প্রশিক্ষণ’। আর এ কাজে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “আমার প্রত্যাশা, সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা এ উদ্দেশ্য অর্জন করতে সক্ষম হব।”

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সরকারের জরুরি সেবাধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান- একথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “দেশে অনেক বড় বড় অগ্নি, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনায় এবং, ভূমিধস ও ভবনধসে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা অত্যন্ত সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ”

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী রানা প্লাজা ধস, নিমতলীর অগ্নিকাণ্ড, তাজরীন গার্মেন্টের অগ্নিকাণ্ড এবং বসুন্ধরা শপিং মলের অগ্নিকাণ্ড নিবারণ ও পরবর্তী উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিসের কাজের প্রশংসাও করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে আমাদের দেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাছাড়া নগরায়ন, শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের কারণে রয়েছে অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি।”

এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭২ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে এই বাহিনীর উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর এই বাহিনীর আধুনিকায়নে নেওয়া পদক্ষেপও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

২০০৯ সালের পর ১০০টি নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও চালু করা হয়েছে। সারা দেশে ২৯৮টি ফায়ার স্টেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চারটি প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালের মধ্যে আরও ২৫১টি ফায়ার স্টেশনের নির্মাণ কাজ চলছে।

প্রকল্পগুলো শেষ হলে দেশে মোট ফায়ার স্টেশন হবে ৫৪৯টি এবং জনবল ৮ হাজার ৩৫৪ জন থেকে বেড়ে প্রায় ১৫ হাজার হবে।

বহুতল ভবনের আগুন নেভানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ কাজে ইতোমধ্যে দুশ কোটি টাকার সর্বাধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। আরও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।”

গত বছর হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় চীন বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে ৫০টি অ্যাম্বুলেন্স, একশ টোয়িং ভেহিকেল (পাম্প টানা গাড়ি), দেড়শ ফায়ার ফাইটিং মোটরসাইকেল, একটি বড় পানিবাহী গাড়ি, একটি ফোমের গাড়ি এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় অন্যান্য উদ্ধার যন্ত্রপাতি দিয়েছে। অনুষ্ঠানে এজন্য চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন