নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের আসামি নূর হোসেনকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত। উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে পাওয়ার এক দিনের মধ্যে এ খবর এলো। ইতোমধ্যেই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা বেনাপোলে গেছেন। রাতেই নূর হোসেনকে দেশে আনা হবে- এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন খবর পাওয়া গেছে।
নূর হোসেনকে রাতেই ফেরত আনা হচ্ছে কি না- জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, “যেহেতু নূর হোসেন এখনও তাদের (ভারতের) কাছে আছে, আমরা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারছি না। তবে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ পাওয়ার পর গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখেছি।”
২০১৩ সালে নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে হত্যার পর পালিয়ে ভারতে গিয়ে ধরা পড়েন নূর হোসেন। পশ্চিমবঙ্গের দমদম কারাগারে রয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশে হত্যামামলার এই আসামিকে ফেরত পাঠাতে পশ্চিমবঙ্গের আদালতের অনুমতি মেলার পর তাকে ফেরানোর আলোচনা চলছিল। বুধবার উলফার নেতা অনুপ চেটিয়াকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত দেয়ার পর এই আলোচনা আরও জোরালো হলো।
ভারতের আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল উলফার নেতা অনুপ চেটিয়া ও তার দুই সঙ্গীকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে বুধবার ভোররাত তিনটার দিকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে তাদের ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা জে পি সিংয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বেনাপোল দিয়ে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল জানিয়েছেন, ‘অনুপ চেটিয়া যেভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারত গিয়েছে, ঠিক একইভাবে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনা হবে।’
সাত খুনের মামলার অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে আদালতে দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ। এতে সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। জারি করা হয় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। এক পর্যায়ে হঠাৎ উধাও হয়ে যান নূর হোসেন। এরপর ২০১৪ সালের ১৪ জুন কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের কাছে কৈখালি এলাকার একটি বাড়ি থেকে দুই সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন এবং র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।


