বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

জিততে বাংলাদেশের চাই ১৩২

1447418108বোলারদের নৈপুণ্যে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ১৩১ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য মাশরাফি বাহিনীর চাই ১৩২ রান।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকাল পাঁচটায় ফিল্ডিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ।

মাত্র ১০ রানে ৩ উইকেট হারালেও ম্যালকম ওয়ালারের ২০ বলের ঝোড়ো ফিফটিতে ১৯.২ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ১৩১ রান করতে পারে জিম্বাবুয়ে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৮ রান আসে ওয়ালারের ব্যাট থেকেই। তার ৩১ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি ছক্কা ও ৪টি চারের মার।

বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি বিন মুর্তজা, আল-আমিন হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান ও অভিষিক্ত জুবায়ের হোসেন ২টি করে উইকেট নেন।

বোলিংয়ে শুরুটাও দুর্দান্ত হয় বাংলাদেশের। মাত্র ১০ রানের মধ্যেই জিম্বাবুয়ের ৩ উইকেট তুলে নেন স্বাগতিক বোলাররা।

জিম্বাবুয়ে শিবিরে প্রথম আঘাতটা হানেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফিই। ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে সিকান্দার রাজাকে (৪) মিড অফে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন বাংলাদেশের সেরা এই পেসার।

পরের ওভারে আল-আমিন বোলিংয়ে এসে তৃতীয় বলেই বিদায় করেন রেগিস চাকাভাকে। ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম।

এরপর মাশরাফি নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে সাজঘরে ফেরান এল্টন চিগুম্বুরাকে। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ককে বোল্ড করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

ইনিংসের নবম ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে জিম্বাবুয়ে শিবিরে আঘাত হানেন নাসির হোসেন। ১৫ রান করা শন উইলিয়ামসকে বোল্ড করেন এই অফ স্পিনার। ফলে ৩৮ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে।

দ্রুত ৪ উইকেট হারালেও ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে নেমে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়েন ম্যালকম ওয়ালার। মিরপুরে চার-ছক্কার ঝড় তোলেন এই ডানহাতি। ৫টি ছক্কা ও ৩টি চারে মাত্র ২০ বলে তুলে নেন ফিফটি, যা জিম্বাবুয়ের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড।

অন্য প্রান্তে ক্রেইগ আরভিনকে মাহমুদউল্লাহ বিদায় করলে ভাঙে মাত্র ৩৪ বলে গড়া ৬৭ রানের জুটি। এ জুটিতে ওয়ালারের অবদানই ৫৮ রান!

এরপর একই ওভারে ২ উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের রানের চাকা থামিয়ে দেন টি-টোয়েন্টিতে অভিষিক্ত জুবায়ের হোসেন লিখন। প্রথমে লুক জংউইকে এলবিডব্লিউ করার পর নেভিল মাদজিভাকে নাসিরের ক্যাচে পরিণত করেন এই লেগ স্পিনার। জুবায়েরের জোড়া আঘাতে ১০৮ রানে ৭ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

ওয়ানডে সিরিজে একাদশে জায়গা না হলেও আজ টি-টোয়েন্টিতে ফিরেছেন এনামুল হক বিজয় ও জুবায়ের হোসেন লিখন।

আর ওয়ানডে সিরিজে টানা দুই ম্যাচে ফিফটি করা ইমরুল কায়েস টি-টোয়েন্টিতে বাদ পড়েছেন। বাদ পড়েছেন স্পিনার আরাফাত সানীও।

এর আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সফরকারী জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজের দলে দুটি পরিবর্তন এনে টোয়েন্টি২০ ম্যাচে মাঠে নেমেছে টাইগাররা।

এ ম্যাচে টোয়েন্টি২০ ভার্সনে অভিষেক হয়েছে স্পিনার যোবায়ের হোসেনের। এছাড়া দলে জায়গা পেয়েছেন এনামুল হক বিজয়। এনামুল সর্বশেষ এ ভার্সনের ম্যাচ খেলেছিলেন ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষিক্ত এনামুল ১২ টোয়েন্টি২০ ম্যাচে ৩০৭ রান সংগ্রহ করেছেন।

এদিকে সৌম্য সরকারের ইনজুরির কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কাকতলীয়ভাবে ওয়ানডে সিরিজে ফিরে দারুণ খেললেও টোয়েন্টি২০ ম্যাচের একাদশে জায়গা হয়নি ওপেনার ইমরুল কায়েসের। সর্বশেষ দুই ওয়ানডেতে তিনি ৭৬ ও ৭৩ রানের দুটি দারুণ ইনিংস খেলেছিলেন। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টোয়েন্টি২০ ম্যাচ খেলার টোয়েন্টি২০ ম্যাচে আর খেলার সুযোগ পাননি তিনি।

বাংলাদেশ একাদশ : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, এনামুল হক, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, আরাফাত সানি, মুস্তাফিজুর রহমান, আল-আমিন হোসেন, যোবায়ের হোসেন।

 

আরও পড়ুন