বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ে কাউন্সিল অনুষ্ঠানে সরকার বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন অভিযোগ করে বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে না পারেন- তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে সরকার বার বার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।”
শুক্রবার নয়া পল্টনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র অভিযোগ করেন- চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, যশোর, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, গাজীপুর ও বাগেরহাটে তাদের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবারের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে রিপন বলেন, “সরকার সারা দেশে একটি গণগ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে। এটা কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ হতে পারে না। সরকার রাজনৈতিক স্প্রেসকে ক্রমেই সঙ্কুচিত করছে।”
দলীয় কাউন্সিলকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর সরকার দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, “সরকার আমাদের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করছে। দেশে মানবাধিকার নেই, মৌলিক অধিকার নেই এমনকি সংগঠন করার সংবিধানস্বীকৃত সেই অধিকারটুকু পর্যন্ত সরকার ছিনিয়ে নিয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা স্থানীয় পর্যায়ে কাউন্সিল করতে ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।”
সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়। তিন বছর পরপর জাতীয় কাউন্সিল করার বাধ্যবাধতা রয়েছে বিএনপির গঠতন্ত্রে। ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল করার লক্ষ্যে গত অগাস্টে তৃণমূল পর্যায় থেকে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কাজ শুরু করে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার বগুড়ায় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। বলেন, “আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বগুড়ায় একটি জনসভায় তার প্রতিপক্ষকে যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন, এটা রাজনীতির শিষ্টাচার ও রুচিবোধের মধ্যে পড়ে না।
রিপন আরো বলেন, “আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, তিনি (আওয়ামী লীগ সভানেত্রী) কথায় কথায় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে অশালীন, অরুচিকর মন্তব্য করুন না কেন, জনগণের কাছে তাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়, যা বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রমাণিত হয়েছে। আমরা ওই নোংরা, কুৎসিত, অশালীন ও কদর্য মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি। ভবিষ্যতে এই জাতীয় আচরণ থেকে নিজেদের সংযত রাখবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।”


