একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে পাওয়া সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনায় (রিভিউ) বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আবেদন শুনানির জন্য মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় এসেছে। সোমবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, পরবর্তী দিনের কার্যতালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে মুজাহিদ এবং ৩ নম্বর ক্রমিকে সালাউদ্দিন কাদেরের রিভিউ আবেদনের শুনানির জন্য রয়েছে।
গত ২ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ সাবেক এই দুই মন্ত্রীর রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ঠিক করে দিয়েছিল।
এছাড়া যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর করা আপিলও (আংশিক শ্রুত) রয়েছে কার্যতালিকায়। তা আছে ৪ নম্বর ক্রমিকে।
কার্যতালিকা অনুসারে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চে আছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
এর আগে রিভিউ শুনানিতে পাঁচ পাকিস্তানিসহ আটজনের সাফাই সাক্ষ্য নেওয়ার যে আবেদন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের করেছিলেন, তা ২ নভেম্বর খারিজ হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদের রিভিউ শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে কনিষ্ঠ দুই আইনজীবী যাতে নির্বিঘ্নে সহায়তা করতে পারেন, সে নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদনও নাকচ হয়ে যায়।
আপিল বিভাগের এই বেঞ্চ গত ১৬ জুন একাত্তরের বদর প্রধান মুজাহিদের আপিলের রায় ঘোষণা করে। মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের ত্রাস সালাউদ্দিন কাদেরের আপিলের রায় আসে ২৯ জুলাই।
দুই আপিলের রায়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল থাকে। তাদের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় একই দিনে, ৩০ সেপ্টেম্বর।
এরপর নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল দুজনের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদকে এবং গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে থাকা সালাউদ্দিন কাদেরকে সেই মৃত্যু পরোয়ানা ১ অক্টোবর পড়ে শোনানো হয়।
দণ্ড কার্যকরের আগে দুই যুদ্ধাপরাধীর শেষ আইনি সুযোগ এই রিভিউ আবেদন। এ আবেদনে রায়ের কোনো পরিবর্তন না হলে তাদের শেষ সুযোগ থাকবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার।


