দেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটস্অ্যাপ ও ভাইবার সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ বিটিআরসি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব বন্ধ থাকবে ।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বুধবার রায় দেবার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিটিআরসি এই নির্দেশ জারি করে।
দেশের সব মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফেসবুক, ফেসবুক মেসেঞ্জার, ভাইবার এবং হোয়াটসঅ্যাপ সেবা অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিকমিউকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) এর চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ইন্টারনেট বিছিন্ন করার কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি। আমরা শুধু সামাজিক যোগাযোগের ৪টি অ্যাপস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, কারিগরি ক্রটির কারণে বা ভুল বোঝাবুঝি থেকে এটি হতে পারে। আমরা কথা বলে ঠিক করে দিচ্ছি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি চলার সময় ‘নিরাপত্তার’ কারণ দেখিয়ে ভাইবার, ট্যাংগো, হোয়াটসঅ্যাপ, মাইপিপল ও লাইন নামের পাঁচটি অ্যাপসের সেবা বন্ধ করে দেয় সরকার। তখন বলা হয়েছিল, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য এসব অ্যাপস ব্যবহার করতেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করার বিষয়ে চলতি মাসের শুরুর দিকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেদারল্যান্ডস থেকে ফিরে গত ৮ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে জঙ্গি অর্থায়নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধরতে জটিলতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল করেছি। এর শুভ ফলও যেমন আছে, খারাপ ফলও আছে। আমরা থ্রি-জি ও ফোর-জিতে চলে গেছি। এ কারণে জঙ্গিরা ইন্টারনেট, ভাইবার থেকে শুরু করে নানা ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছে। সে জন্য আমাদের চিন্তাভাবনা আছে, যদি খুব বেশি ব্যবহার করে হয়তো একটা সময়ের জন্য বা কিছুদিনের জন্য বন্ধ করে দেব। এই লিংকগুলো (জঙ্গি অর্থায়নের সূত্র) যাতে ধরা যায়।’
১১ নভেম্বর জাতীয় সংসদেও একই ধরনের বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কোনোভাবে সহ্য করা হবে না। কিছুদিনের জন্য হলেও এটা বন্ধ করে সন্ত্রাসীদের যাতে ধরা যায় সে পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য এটা বন্ধ করে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে ধরা হবে।’


