ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বুধবার বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ খবর দিয়েছেন কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বিদ্যমান বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন অনুযায়ী টিআইবির নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে বলে এ সময় জানান সুরঞ্জিত।
গত ২৫ অক্টোবর ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ নামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সংসদ ক্ষমতাসীন দলের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের ভুবনে পরিণত হয়েছে। সংসদের বাইরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রাতিষ্ঠানিক ফোরামে পরিণত হয়েছে। সংসদকে ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’ বলেও আখ্যায়িত করেন তিনি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের ওই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। সংস্থাটিকে সংসদে তলবেরও দাবি ওঠে।
পার্লামেন্ট ওয়াচ প্রতিবেদন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় টিআইবি বলেছে, তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।
সংসদে সমালোচার পর টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আশা করব, প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ, তথ্য উপাত্ত ও সুপারিশ সংসদ বিবেচনায় নেবে। প্রতিবেদন নিয়ে সংসদের যে কোনো পদক্ষেপে সহায়তা করতে প্রস্তুত টিআইবি।”
সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সাংবাদিকদের আরও বলেন, সংসদকে রক্ষা করতে হবে। এনজিওগুলোকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনেতে হবে।
টিআইবিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “কাকের কাজ কাককে করতে হবে, কাক ময়ূর সেজে কাজ করলে হবে না। এনজিও হয়েও টিআইবি এ কাজ করেছে। সংসদকে হেয় করায় টিআইবির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।”
কোনো এনজিওর সংসদকে হেয় করার এখতিয়ার নেই উল্লেখ করে সুরঞ্জিত বলেন, “সংসদের সমালোচনা হতেই পারে। এজন্য জনগণ রয়েছে, গণমাধ্যম রয়েছে, বিরোধী দল রয়েছে, সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিও হতে পারে। কিন্তু এনজিও তা পারে না।”
এসময় তিনি জানান, সংসদ নিয়ে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে তাদের আপত্তি নেই। তবে সংসদকে ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’ ও বিরোধী দলকে ‘বি টিম’ বলায় সংসদকে হেয় করা হয়েছে।
সুরঞ্জিত বলেন, “টিআইবি বিবৃতি দিয়ে বলছে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আরেকদিন বলবে আদালত নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এটা হতে পারে না। সমালোচনার পর এ ধরনের বিবৃতি স্পর্ধার শামিল। এজন্য ক্ষমা না চাওয়ায় তাদের নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করেছি আমরা।”


