সারা দেশে দেড় ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বড় বিপদে পড়েছিল দেশের বিমান সংস্থাগুলো। এই দেড় ঘণ্টায় বিমান সংস্থাগুলো একটিও টিকিট বিক্রি করতে পারেনি। এ অবস্থায় বেলা সোয়া ১টা থেকে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার পর এক পর্যায়ে সন্ধ্যার পর সব ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিমান সংস্থাগুলো। তবে আড়াইটার দিকে ইন্টারনেট ফিরে আসায় সে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।
বেসরকারি বিমান সংস্থা নভো এয়ারের মার্কেটিং বিভাগের প্রধান সোহেল মুজিদ বলেন, “ইন্টারনেটহীন দেড় ঘণ্টায় আমরা খুব চিন্তায় পড়েছিলাম। একটি পর্যায়ে অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনা হয়-আর কিছুক্ষণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে আমরা হয়তো সন্ধ্যার পরে সব ফ্লাইটই বাতিল করে দিব।”
এয়ারলাইন্সের জন্য ইন্টারনেটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আধুনিক ব্যবস্থাপনায় একটি এয়ারলাইন্সের জন্য ইন্টানেট অবিচ্ছেদ্য অংশ। নো ইন্টারনেট মানে হলো নো সেল। এই দেড় ঘণ্টায় আমাদের টোটাল সেল ছিল জিরো। এটাকে এক ধরনের অস্তিত্ব সংকট বলা যেতে পারে।”
আরেকটি বেসরকারি বিমান সংস্থার মার্কেটিং বিভাগের জিএম কামরুল ইসলাম জানা, “কী বলব? প্রত্যেকটি এয়ারলাইন্সই সাফার করেছে। ইন্টারনেট ছিল না, সমস্যা তো একটু হবেই।”
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বুধবার দুপুরে প্রায় দেড় ঘণ্টা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে বাংলাদেশ।
যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড রিভিউয়ের আবেদন খারিজের দুই ঘণ্টা পর বুধবার দুপুরে বাংলাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে ফেইসবুকসহ ইন্টারনেটে যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাপ বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর ইন্টারনেট সংযোগ ফিরতে শুরু করলেও সামাজিক যোগাযোগের কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ রয়েছে এখনও।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, “ফেইসুবক, ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে ইন্টারনেট বন্ধের কোনো নির্দেশনা ছিল না। ওই চারটি লিংক বন্ধ করার প্রক্রিয়া হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ হতে পারে।”
টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও ইন্টারনেট বন্ধের কোনো নির্দেশনা না থাকার কথা জানিয়েছেন। অ্যাপগুলো বন্ধ করার সময় এ সমস্যা হতে পারে বলে জানান তিনি।


