বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

রায়ের কপি কারাগারে

saka-mujahid-290x184একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়।

এর আগে, শেষ বিকালে প্রধান বিচারপতিসহ চার বিচারপতির সাক্ষরিত এই রায় প্রকাশ করা হয়। পরে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় পুলিশ প্রহরায় বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে রিভিউর রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়।

আইনানুযায়ী, রিভিউর রায় প্রকাশের পর সরকার যে তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে দেবে সেই তারিখেই কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে।

এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছালে ফাঁসির আসামি দুই যুদ্ধাপরাধীকে তা জানানো হবে। কারা কর্তৃপক্ষ জানতে চাইবে, তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না।

২০১৩ সালের ১ অক্টোবর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সালাউদ্দিন কাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর তিনি ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল দায়ের করেন। চলতি বছরের ২৯ জুলাই আপিল বিভাগ সালাউদ্দিন কাদেরের আপিল খারিজ করে দিয়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখে। এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি রিভিউ পিটিশন দায়ের করেন।

অন্যদিকে ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই মুজাহিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনালের এ ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১১ আগষ্ট আপিল করেন তিনি। চলতি বছরের ১৬ জুন বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ। তিনিও এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ দাখিল করেন।

সর্বশেষ আইনি লড়াইয়ে এই দুই নেতার রিভিউ আবেদন বুধবার খারিজ করে দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একদিন পর আজই রিভিউ খারিজের রায় দুটি লেখা শেষ করেন আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক। পরে ওই রায়ে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক সাক্ষর করেন। সাক্ষর করেই রায় দুটি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা রায়টি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন।

আরও পড়ুন