স্বামী-সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে যেতেই হয়েছে তাকে ভারতে। কিন্তু বাবা-মাকে ছেড়ে যেতে বড় কষ্ট হচ্ছে লালমনিরহাটের সবিতার। জন্মদাতাদের হয়তো আর কোনোদিন দেখতে আসতে পারবে না। হয়তো এটাই শেষ দেখা, শেষ শ্রদ্ধা ভালোবাসা। আবার কেউ যাচ্ছেন বৈষয়িক হিসাব-নিকেশ কষেই। বাংলাদেশের থেকে অনেটকাই স্বচ্ছল জীবনযাপন করা যাবে ভারতে গিয়ে। তাই নাম লিখিয়েছেন ভারতের খাতায়।
বৃহস্পতিবার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে লতামারী ও গতামারী ছিটমহল থেকে ৬২ জন ওপারের কোচবিহারে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা হতাশ। ফের সেই কাঁটাতার ঘেরা জীবন। বাংলাদেশ ঘেরা ছিটমহলগুলোতে যেভাবে এতোদিন কার্যত বন্দি ছিলেন, স্বদেশে গিয়েও যে একই সমস্যাতে পরতে হবে, তা ভাবেননি তারা। তাদের জন্য ভোটবাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। টিনের বেড়ার দুই শয্যার ঘরের ব্যবস্থা আছে পরিবার পিছু। এমন মোট ৫০টি ঘর আছে সেখানে।
তবে এই এলাকাটিকে কাঁটাতারের নেট দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। প্রধান গেট মাত্র একটাই। যার ফলে কোচবিহারের স্থানীয় জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না ওই মানুষগুলো। এমনকী স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গেও মেশার সুযোগ নেই বললেই চলে। অবসর সময় কাটাতে টেলিভিশন বা সংবাদপত্র আনার ব্যবস্থাও নেই সেখানে। দেয়া হয়নি সে দেশের সিম কার্ডও। তবে কি আবারও আরেক বন্দিজীবনে পা রাখলেন ছিটমহলবাসী। তাদের মুক্তির স্বাদ পাওয়ার স্বপ্ন কি অপূর্ণ থেকে যাবে?
এ বিষয়ে কোচবিহারের জেলা প্রশাসক পি উলগনাথন অবশ্য জানান, সব সমস্যা মেটাতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রশাসন পাশে আছে।
চলতি বছরের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দি জীবনের মুক্তি মিলে ভারত বাংলাদেশের ১৬২টি ছিটমহলের কয়েক হাজার মানুষের। যার মধ্যে ১১১টি বাংলাদেশের এবং বাকি ৫১টি ভারতের ভুখণ্ডের সাথে যুক্ত হয়। এগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি এবং নীলফামারীতে রয়েছে ৪টি। এর মধ্যে বাংলাদেশে মিশে যাওয়া ছিটমহল থেকে ১ হাজার ১৬৭ জন ভারতে ফিরতে চান।
এগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রামে দাশিয়াছড়া সবচেয়ে বড় ছিটমহল। সেখানকার বাসিন্দাদের একজন নেতা নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ছিটমহলের বাসিন্দাদের অনেকে দিল্লিতে কাজ করেন, তারাই মূলত ভারতে যাওয়ার সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছেন।’


