লন্ডন থেকে চোখ ও পায়ের চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘ ৬৬ দিন পর দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার প্রায় দুই ঘণ্টা পর শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে গুলশানে নিজ বাস ভবন ফিরোজায় পৌঁছেছেন তিন বারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি বিমানে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে সাড়ে ৫টার দিকে ভিআইপি গেট দিয়ে বের হয়ে তিনি বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
এরও আগে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৪টা ১০মিনিট) এমিরেটাস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।
বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে বিদায় জানান তার বড় ছেলে তারেক রহমান, ছেলের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, তার তিন নাতনী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদসহ অন্য নেতাকর্মীরা।
এদিকে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাদের হাতে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে লেখা ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড শোভা পাচ্ছিল। মুহুর্মুহু স্লোগানে তারা বিএনপি নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মুজিবুর রহমান সারোয়ার, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফাসহ দলের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মওদুদ আহমদ অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ আমাদের নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে আজ হাজার হাজার নেতা-কর্মী বিমানবন্দরের বাইরে উপস্থিত হয়েছে। আমাদের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এ থেকে প্রমাণ হয়ে দেশে গণতন্ত্র নেই।”
খালেদা দেশে ফিরবেন না বলে আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার তার ফেরার খবর দেয় বিএনপি।
দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশের ক্রান্তিকাল ও রাজনীতির সঙ্কট বিবেচনা করেই আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
গত ১৫ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা। সেখানে তিনি চোখ ও বাতের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে বিএনপি নেতারা বলে আসছেন।
লন্ডনে পারিবারিক পরিমণ্ডলে সময় কাটানোর পাশাপাশি বিএনপির আয়োজনে দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন খালেদা।


