একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উভয়ের সঙ্গে কারাগারে শেষ সাক্ষাৎ করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। আজ রাতে যেকোনো সময় এই দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করা হতে পারে- এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সালাউদ্দিন ও মুজাহিদকে তওবা পড়াতে রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেছেন কারাগার পুকুর পাড় সংলগ্ন মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মনির হোসেন খান। তিনি দুই যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের রায় কার্যকরের আগেও তাদের তওবা পড়িয়েছিলেন।
এদিকে, রায় কার্যকরকে কেন্দ্র করে কারাগারে ছয়জন জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুটি অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের ভেতরে মাঠে রয়েছে। কাফনের কাপড় ও কফিন বক্স ছাড়া অধিকাংশ দ্রব্যাদি সেখানে মজুদ রাখা হয়েছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র বলেছে, আজ সন্ধ্যার পর রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির মঞ্চে আলো জ্বালানো ও শামিয়ানা টানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ছয় জল্লাদ শাহজাহান, রাজু, আবুল, মাসুদ, ইকবাল ও মুক্তারকে। তাঁরা বিভিন্ন মামলায় সাজা খাটছেন। এই জল্লাদেরাই ফাঁসির কার্যকরের আগে ও পরে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
এর আগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রাত পৌনে দশটার দিকে এই তথ্য জানান। এর মাধ্যমে এই দুই জনের ফাঁসি কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকলো না। এদিকে রাত সাড়ে আটটার দিকে তাদের পরিবারের সদস্যদের ‘শেষ দেখা’ করতে কারাগারে ডেকে পাঠানো হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরা কারাগারের ফটকে উপস্থিত হন। স্ত্রী, ছেলেসহ ১৭ সদস্যবিশিষ্ট সাকার পরিবার পাঁচটি গাড়িতে রাত ৯টায় কারা ফটকের সামনে উপস্থিত হন। পরে আরও বেশ কয়েকজন সেখানে আসেন।
মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরা রাত ৯টা ২০ মিনিটে কারা ফটকের সামনে উপস্থিত হন।
সাধারণত ফাঁসি কার্যকরের আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়।
এদিকে, কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কারাগারের চারদিকে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আশপাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব দোকানপাট। রাস্তায় মোড়ে মোড়ে র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন মোতায়েন রয়েছে।
অন্যদিকে, ফাঁসি কার্যকরের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সামিয়ানা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়ে মঞ্চ। সেখানে পর্যাপ্ত আলোক সরবরাহের জন্য ফ্লাড লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঞ্চে লাগানো হয়েছে পাটাতন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার নাজমুল আলম কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। ১০টা ৫ মিনিটে ডিআইজি (প্রিজন) ও দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারের ভেতরে গেছেন।
সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১৮ নভেম্বর আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর করা পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ১৫ জুন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নেওয়া হয়। সাকা চৌধুরীকে দীর্ঘদিন ধরে রাখা হয়েছিল কাশিমপুর-১ নম্বর কারাগারে। ১৫ নভেম্বর তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। দুজনকে পাশাপাশি কক্ষে রাখা হয়েছে। কক্ষগুলো কারাগারে ফাঁসির মঞ্চের কাছেই।


