বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে কড়া তিরস্কার: লিখিত ব্যাখ্যা দাবি

Flag-Pins-Pakistan-Bangladeshবাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সর্বশেষ রায় সম্পর্কে আপত্তিকর সমালোচনা করায় ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসের হাইকমিশনার সুজা আলমকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাকে সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসতে বলা হয়েছে। পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে তিরস্কার করা হবে। পাশাপাশি দেশটির হাইকমিশনারকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতেও বলা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রবিবার সন্ধ্যায় এই তথ্য জানা গেছে।

১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে শনিবার গভীর রাতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

ওই রায় কার্যকরের পর রবিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র কাজী খলিলুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ এবং গভীর যন্ত্রণা অনুভব করছি।’ ১৯৭১ সালের ঘটনায় বাংলাদেশের ত্রুটিযুক্ত বিচারের বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও পাকিস্তান লক্ষ্য করছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আলোকে ১৯৭১ সালের ঘটনায় বাংলাদেশের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে ফেলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দুই দেশের সুনাম এবং সম্প্রীতি বজায় থাকবে বলে বিবৃতিতে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়া পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এই বিষয় নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশে একটি ‘গোষ্ঠী’ আছে যারা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে বিমুখ। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জনগণ অতীতের তিক্ততা পেছনে ফেলে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
আজ রোববার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল জিয়ো টিভির অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।

নিসার আলী খান বলেন, ‘পাকিস্তানের সমর্থক’ কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্পৃহা বন্ধ করার এটাই উপযুক্ত সময়। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হলেও বিশ্ব নীরব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো বিশ্ব বিশেষ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নীরবতায় তিনি বিস্মিত।

হাইকমিশনার সুজা আলমকে ডেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাবে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তান এমন মন্তব্য করতে পারে না। ঘটনাটি দৃষ্টিকটু এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত। কেননা যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ জনগণেরই এই বিষয়ে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন এবং সহযোগিতা রয়েছে।

এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে পরামর্শ দিয়ে বলা হবে, পাকিস্তানের উচিত নিজেদের দিকে তাকানো। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থা নিয়ে তাদের ভাবার কোনো অধিকার নেই।

একাত্তরের ২৫শে মার্চ পাক হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত বাঙালীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের ত্রিশ লাখ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এ হত্যাযজ্ঞে সহায়তা করে তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধের সেই ভূমিকায় পাকিস্তান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি। বরং, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এর আগেও যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাদের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও এমনই বিবৃতি দিল তারা।

আরও পড়ুন