বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচনের প্রচার থেকে মন্ত্রী-এমপিরা বাদ

Election-দেশে দলীয়ভাবে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকারের পৌরসভা নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারি সুবিধাভোগী ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এ নির্বাচনের প্রচারণায় যেতে পারবেন না। নতুন আইন অনুযায়ী নির্বাচনী আচরণবিধিতে এমন বিধান রেখেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি সূত্র জানায়, নতুন আইন অনুযায়ী বিধি ঠিক করে আজ রোববার বিকেলে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

অবশ্য এর আগে অধ্যাদেশ জারির গেজেট পেয়ে সে অনুযায়ী বিধিমালা ঠিক করে গত ৫ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল। সেখানে মন্ত্রী-এমপিদের সরকারি সুবিধা বাদ দিয়ে প্রচারণায় যাওয়ার সুযোগ রেখেছিল সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠান।

আজ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো খসড়া বিধির ২২ ধারায় সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নির্বাচনী প্রচারণা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ। (১)-এ বলা হয়েছে, ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাঁদের সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র) এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচনপূর্ব সময়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না।’

‘তবে শর্ত থাকে যে, উপরোক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার হইলে তিনি কেবল তাঁহার ভোট প্রদানের জন্য ভোটকেন্দ্রে যাইতে পারবেন।’

প্রথমবার ইসি থেকে যখন বিধিমালা ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয় তখন সেখানে বিধানে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র পৌর নির্বাচনপূর্ব সময়ে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন।’

‘তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্রের ব্যবহার বা অনধিক সরকারি সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না। একইসঙ্গে সরকারি-আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যবহার করতে পারবেন না। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ভোটদান ছাড়া ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ কিংবা ভোট গণনার সময় গণনাকক্ষে প্রবেশ বা উপস্থিত থাকতে পারবেন না।’

দেশে প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকারের পৌর নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘এটি নতুন নিয়মে হলেও রাজনৈতিকভাবে নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা আমাদের আগে থেকেই রয়েছে। কারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয়ভাবেই হয়ে থাকে।’

নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, এ নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিধি ভেটিং হয়ে এলেই আমরা এ নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে বসব।

তা ছাড়া এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা সুন্দর রাখার জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করব। ভোটাররা যাতে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তার সব ব্যবস্থাই করবে কমিশন, যোগ করেন মো. শাহনেওয়াজ।

অবশ্য ইসি সূত্রে জানা গেছে, বিধি ভেটিং হয়ে এলেই ডিসেম্বরে নির্বাচন করার জন্য এ সপ্তাহের যেকোনো দিন এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

এর আগে বিদ্যমান আইনে সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, হুইপ, সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা তাঁদের সমমর্যাদার সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা পৌর নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনে সরকারি সুবিধা না নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও উপনির্বাচনে সেই সুযোগ নেই।

বিধিটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন করার প্রক্রিয়াটি আগের থেকে আরো সহজ করা হয়েছে, ‘আগে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জুড়ে দেওয়ার বিধান ছিল। মেয়র প্রার্থীদের জন্য ১০০ জন ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জুড়ে দেওয়া বিধান রাখা হচ্ছে। এর আগে সর্বোচ্চ ২০০ জন ভোটারের স্বাক্ষর নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল ইসি।

তবে আগে কেউ মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে থাকলে তাঁর ক্ষেত্রে ভোটারদের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর লাগবে না এবং কাউন্সিলর পদ নির্দলীয় হওয়ার সেখানে আগের মতোই নির্বাচন হবে। কাউন্সিলরদের কোনো ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে না।

বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ:
পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকছে না। শুধু দলীয়ভাবে মনোনীত অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে পৌরসভর নির্বাচনী বিধিমালায়। এতে দলের প্রাথমিক মনোনয়নে একাধিক ব্যক্তি প্রার্থী হতে পারবেন। তবে চূড়ান্তভাবে একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বাকিদের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে প্রস্তাবিত বিধিমালার ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক দল নির্বাচনী এলাকার মেয়র পদে প্রাথমিকভাবে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করলে, উক্ত রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কার্যনির্বাহকের স্বাক্ষরিত লিখিত পত্রের মাধ্যমে তিনি নিজে বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বা তার পূর্বে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করবেন এবং সেই ক্ষেত্রে উক্ত দলের মেয়র পদে অন্যান্য মনোনীত প্রার্থী আর প্রার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না।’

প্রস্তাবিত বিধিমালায় প্রার্থী চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার পর কোনো অবস্থায় তা প্রত্যাহারের বা বাতিল করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মনোনয়নের ক্ষমতা পাচ্ছেন ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত’ নেতারাও:
পৌরসভা নির্বাচনে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ক্ষমতাপ্রাপ্ত নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন বিধিমালায় বলা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক দলের পক্ষে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কার্যনির্বাহকের স্বাক্ষরিত এই মর্মে প্রত্যয়ন থাকতে হবে যে, প্রার্থীকে ওই দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে শর্ত থাকে যে, রাজনৈতিক দল মেয়র পদে প্রাথমিকভাবে একাধিক মনোনয়নপত্র প্রদান করতে পারবে। রাজনৈতিক দল ক্ষমতাপ্রাপ্ত কার্যযনির্বাহকের নাম, পদবি ও নমুনা স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি তফসিল ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করবে এবং তার অনুলিপি নির্বাচন কমিশনেও দাখিল করতে হবে।’

এ নির্বাচনে প্রতি পৌরসভায় সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবে রাজনৈতিক দলগুলো। এক চেকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা অনুদান নিতে পারবে দলগুলো। এ ছাড়া দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা সমমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি বা তাঁদের মনোনীত ব্যক্তিকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত করে পরিচালনা বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে।

কোনো রাজনৈতিকদল বিধি ভঙ্গ করলে তার জন্য অনধিক পাঁচ লাখ টাকা দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে বিধিতে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সতর্ক করে নির্বাচন কমিশনা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন করার বিষয়টি আগের থেকে সহজ করা হলেও তাদের সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সমর্থকদের স্বাক্ষর নেওয়ার ক্ষেত্রে। প্রার্থীকে অবশ্যই তার নির্বাচনী এলাকার মধ্য থেকে সমর্থক ঠিক করতে হবে। কারণ যাচাই-বাছাই করে যদি দেখা যায় যে, সে সেই এলাকার ভোটার নয়। তাহলে সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে।’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী আরো বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম দিকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হবে। জানুয়ারিতে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা নিয়ে আমাদের কর্মকর্তারা মাঠে ব্যস্ত থাকবেন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমা। ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে।

নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কমিশনে এখনো বৈঠক হয়নি। আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে আসার পর বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হবে।

১২ অক্টোবর দলভিত্তিক পৌরসভা ভোট করতে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্তের পর ৩ নভেম্বর এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি হয়। দলীয়ভাবে সব পদে পৌর নির্বাচনের অধ্যাদেশ হাতে পেয়ে বিধিমালায় সংশোধন এনে ইসি তা ৫ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠায়। ৮ নভেম্বর সংসদে অধ্যাদেশ উপস্থাপন ও ৯ নভেম্বর মন্ত্রিসভায় অধ্যাদেশটি আইন আকারে ওঠে। এরমধ্যে ১৫ নভেম্বর অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন সংশোধন বিল সংসদে উত্থাপন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সেখানে পৌরসভায় দলীয়ভাবে শুধু মেয়র পদে নির্বাচন করার বিধান রাখা হয়। সে অনুযায়ী ১৯ নভেম্বর বিল আকারে আইনটি সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয় ২১ নভেম্বর। রোববার নতুন আইন অনুযায়ী বিধি ঠিক করে পাঠানোর জন্য আগের বিধিটি ইসিতে ফেরত পাঠান। ইসি তা ঠিক করে রোববার সন্ধ্যায় ভেটিংয়ের জন্য আবারও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

যুদ্ধাপরাধীর অপরাধে জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ। এ দলটি বাদে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মেয়র পদে প্রার্থী দিতে পারবে।

এ ছাড়া ইসির নিবন্ধনে থাকা ৪০টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করবেন। এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য তিন পদে ৩৪টি প্রতীক রাখা হয়েছে।

স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থীদের জন্য জন্য ১২টি প্রতীক হলো- ইস্ত্রি, কম্পিউটার, ক্যারাম বোর্ড, চামচ, জগ, টাই, নারিকেল গাছ, বড়শি, মোবাইল ফোন, রেল ইঞ্জিন, হ্যাঙ্গার ও হেলমেট।

স্বতন্ত্র সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের জন্য জন্য ১০টি প্রতীক হলো- আঙ্গুর, কাঁচি, গ্যাসের চুলা, চকলেট, চুড়ি, পুতুল, ফ্রক, ভ্যানিটি ব্যাগ, মৌমাছি ও হারমোনিয়াম।

স্বতন্ত্র সাধারণ কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের জন্য জন্য ১২টি প্রতীক হলো- উটপাখি, গাজর, টিউব লাইট, টেবিল ল্যাম্প, ডালিম, ঢেঁড়শ, পাঞ্জাবি,পানির বোতল, ফাইল কেবিনেট, ব্রিজ, ব্ল্যাক বোর্ড ও স্ক্রু ড্রাইভার।

ইসিতে পাঠানো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ৩২৪টি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২৩৬টি পৌরসভা নির্বাচন উপযোগী রয়েছে।

ইসি সূত্রে আরো জানা যায়, আগামী পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ১০০ কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। যেখানে ২০১১ সালের এ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল ৩৬ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন