বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

এতোটা অকৃতজ্ঞ আমরা কিভাবে হই

Sabbir_Khanসাব্বির খান, সুইডেন থেকে।

 

সাকা আর মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। চারিদিকে হৈ হৈ রৈ রৈ শোরগোলও স্তিমিত প্রায়। বিজয় মিছিলের শেষ মশালটিও নিভে গেলো কিছুক্ষণ আগে। শেষ বিকেলে আস্ত খাসির রোষ্ট, দেশি মুরগীর ঝলসানো দেহ শোভা পেয়েছে বিজয়ীর হাতে। দিকে দিকে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি খাওয়ার ধুম, বাঁকা মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

পল্টন, শাহবাগের মোড়গুলো শীতের আবরণে একটু একটু করে জনশুণ্য হয়ে গেল কিছুক্ষণ আগে। অথচ এখান থেকেই শেখ হাসিনার পিন্ডি উদ্ধারের যাবতীয় সব উদ্ভট শব্দ-উৎসবের আয়োজন হতে দেখেছি গত ৫টি বছর ধরে। ফেসবুকের চেতনাজীবীরাও তখন রাস্তা দখলে রেখেছিল গিটার হাতে টিএসসিতে বা পিতা-ভাইয়ের ছবি বুকে টাঙিয়ে খোলা ময়দানে।

কিন্তু যে বীরকন্যা শেখ হাসিনা সবার মুখে ছাই দিয়ে এই অসাধ্য কাজটি সাধন করলেন নিজের জীবনকে বাজি রেখে, সেই তাঁকে উদ্দেশ্য করে “ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা” লেখা ব্যানার হাতে কোনও যুবক-যুবতীকে দেখা যায়নি শাহবাগ বা পল্টনের বুক চিরে হেঁটে যেতে, আকাশ কাঁপানো শ্লোগান সুরে।

অনেকেই আজ হিরো হলো, সেলিব্রিটি হলো, ফেসবুকে পসরা জমিয়ে মাতমের সুব্যবস্থাও হলো। অথচ এতোটা অকৃতজ্ঞ আমরা কিভাবে হই! শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানালে হয়ত সে পসরায় ভাটা পড়ে যাবে, তাও বুঝি। তা না হলে কি চেতনাজীবী!

ভাল থেকো জাতি। ভাল হোক প্রীতি। আরো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। অধৈর্য নয়, সহিষ্ণু হই।

লেখক: সুইডেন প্রবাসী।

আরও পড়ুন