বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন খালেদা জিয়া

73659_173দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা নাইকো মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ সোমবার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে তিনি এই মামলায় জামিন চাইবেন। তার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন গতকাল সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এক-এগারোর পর জারি করা জরুরি অবস্থার সময় দুদকের দায়ের করা এই মামলা বর্তমানে ঢাকার একটি বিশেষ আদালতে অভিযোগ গঠন পর্যায়ে রয়েছে।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের আদেশ অনুযায়ী সোমবার দুপুরে তিনি বিশেষ আদালতে হাজির হবেন এবং জামিনের আবেদন করবেন। তিনি আরো বলেন, রায়ের লিখিত কপি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিলেন হাইকোর্ট। সে হিসেবে সোমবার তিনি আদালতে যাবেন।  ঢাকার বিশেষ জজ মো: আমিনুল ইসলামের আদালত এ মামলাটি শুনবেন।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় নাইকো মামলাটি দায়ের করা হয়। পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, মতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসত্রে পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেয়ার’ মাধ্যমে অভিযুক্তরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার তি করেছেন।

এই মামলার বৈধতা প্রশ্নে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট, সেই সাথে রুলও জারি করা হয়। মামলা দায়ের কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। ২০০৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এ মামলায় জামিন পান খালেদা জিয়া।

প্রায় সাত বছর পর চলতি বছর শুরুতে রুল নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেয় দুদক। খালেদা জিয়ার আবেদনে রুলের ওপর শুনানি করে গত ১৮ জুন রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে হাইকোর্ট বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা নাইকো মামলার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। এই মামলার কার্যক্রমের ওপর আগের দেয়া স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে নি¤œ আদালতে এই মামলার কার্যক্রম চলতে বাধা কেটে যায়। তবে রায়ের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। গতকাল মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, আপিল ফাইল ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। তবে তা এখনো আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি।

নাইকোকে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও একই দিনে আরেকটি মামলা করেছিল দুদক। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০১০ সালের মার্চে হাইকোর্ট ওই মামলা বাতিল করে দেন। ওই রায়ে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়। বিচারিক আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ‘বেআইনি কাজ’ করেছে উল্লেখ করে হাইকোর্ট ওই রায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের বিধিমালাও সংশোধন করতে বলেছিলেন।

আর যারা আসামি : খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো: শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা কাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দণি এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

আরও পড়ুন