আদালতের হাজতখানা থেকে পালানো রাজধানীর কাফরুল থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম পাটোয়ারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবার বেলা দেড়টার দিকে আদালত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ।
পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে ব্যবসায়ী ফারুক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলার তিন আসামির একজন রেজাউল। রোববার এ মামলায় জামিন নাকচ হওয়া তিন আসামিকে হাজতখানা থেকে কারাগারে পাঠানোর সময় তাঁর পালানোর বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করা হয়। আজ সে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার মামলায় বিকেলে তাঁকে (রেজাউল) আদালতে তোলা হবে।
আদালত সূত্র বলেছে, ঢাকার বিশেষ জজ আখতারুজ্জামানের আদালতে গতকাল সকালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন এই হত্যা মামলার তিন আসামি কাফরুল থানার সাবেক দুই উপপরিদর্শক নুরুজ্জামান ও রেজাউল করিম পাটোয়ারী এবং পুলিশের তথ্যদাতা (সোর্স) রতন বাবু। আদালত তিনজনেরই জামিনের আবেদন নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে হাজতি পরোয়ানাও জারি করেন। পরে তাঁদের আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বিকেলে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর সময় পুলিশ বুঝতে পারে, এক আসামি (রেজাউল) নেই।
আদালত সূত্র বলেছে, গতকাল এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আগামী ১৯ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
সূত্র বলেছে, আসামি রেজাউল করিমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হাজতি পরোয়ানা জারির পর তাঁদের ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের পুলিশের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রেজাউল কৌশলে বেরিয়ে পালিয়ে গেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু তৈয়ব জানান, দুই এসআই হাইকোর্ট থেকে প্রথমে দুই মাসের আগাম জামিন পান। পরে তাঁরা ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত জামিন পান। ওই আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ তিন আসামি বিশেষ জজ আদালত ৫-এ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক তাঁদের জামিনের আবেদন নাকচ করে আজ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আইনজীবী আবু তৈয়ব আরো জানান, মামলাটিতে পুলিশ ৩০৪ ধারায় (অপরাধজনক প্রাণনাশ) আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও আদালত তা আজ নাকচ করে সরাসরি হত্যার অভিযোগে ৩০২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন এবং মামলার বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। আগামী ১৯ জানুয়ারি এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্যও দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের মৃত জামাল হকের ছেলে ফারুক হোসেন কামাল রাজধানীর কাফরুল এলাকায় থেকে উপ-ঠিকাদারির কাজ করতেন। ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আসামি এসআই নুরুজ্জামান ও সোর্স রতন কাফরুলের ভাণ্ডারী স্টিলের দোকান থেকে ফারুক হোসেনকে মামলা আছে বলে কাফরুল থানায় নিয়ে যান।
ওই দিন রাত ১১টায় বাদী থানায় গেলে থানাহাজতে তাঁর ভাইয়ের চিৎকার শুনতে পান। পুলিশকে ম্যানেজ করে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করলে ফারুক এসআই নুরুজ্জামান ও সোর্স রতনকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে বলেন। টাকা না দিলে মেরে ফেলবে বলে জানান।
এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি ফারুককে কাফরুল থানার ৫৭(২)১২ নম্বর মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত আসামির শরীরে জখমের চিহ্ন দেখে রিমান্ড নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।
পরে ২২ ফেব্রুয়ারি কারাগারে ফারুক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কারা হাসপাতালে তাঁর রক্তবমি হলে তাঁকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টায় মারা যান ফারুক।
এ ঘটনায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন নিহত ফারুকের বোন পারভীন হক। পরে আদালত মামলাটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
চলতি বছরের ১ মার্চ ঢাকার সিএমএম আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ায় দণ্ডবিধির ৩৪২/৩০৪/১১৪/১০৯ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


