বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধা সদর হাসপতালে জেনারেটর একযুগ ধরে অকেজো

Gaibandha-hospitalগাইবান্ধা সদর হাসপাতালে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় এক যুগ ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে জেনারেটরটি। সেই সঙ্গে এটি চালাতে প্রয়োজনীয় মিটারসহ আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতিও নষ্ট হচ্ছে। ফলে লোডশোডিংয়ের সময় মোমবাতি আর ছোট দুটি জেনারেটর দিয়ে কোনোমতে দুর করতে হয় পুরো হাসপাতালের অন্ধকার।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ রোগীর শয্যাসংলগ্ন টেবিল খাদ্যের পাশাপাশি দিয়াশলাই ও মোমবাতি রাখা চিকিৎসাধীন রোগীরা বলেন, লোডশেডিংয়ের সময় রোগী ওয়ার্ডসহ অন্যান্য বিভাগে মোমবাতি কিংবা কুপিই একমাত্র ভরসা। গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন গাইবান্ধা সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের মাসুমা বেগম বলেন, “সনদেত থাকি দুই-তিন ঘন্টা কারেন (বিদ্যুৎ) থাকে না। বেসরকারি হাসপাতালোত চিকিৎসা করব্যার আসি আনদারোত (অন্ধকারে) থাকান নাগে।”

পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের শ্যামল চন্দ্র বলেন, সাত দিন থাকি হাসপাতালোত আচি। আইতোত শহরোত কারেন থাকে না। পোত্তেক দিন আইতোত পাঁচ-ছয়টা করি মোমবাতি পুড়ব্যার নাগচি। হামরা গরিব মানুষ ওষুধঢ়পত্য কিনমো নাকি মোমবাতি কিনমো।

গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানা যায়, ২০০৩ সালে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ডিজেল ইঞ্জিনচালিত ৪০ কেভির এই জনারেটরটি বরাদ্দ দেয়। এতে ব্যয় হয় সাত লাখ টাকা। এ ছাড়া জেনারেটর রাখার জন্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া জেনারেটর চালানোর আনুষঙ্গিক আরও কিছু বৈদ্যুতিক সামগ্রীসহ মোট ব্যয় হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা। জেনারেটরটির পেছনে এত টাকা ব্যয় করা হলেও এটি চালানোর মূল যে উপকরণ জ্বালানি তেল, তাই সরবরাহ করা হয়নি। ফলে সব আয়োজনই বিফলে যায়। জেনারেটরটি আর চালু করা যায়নি।

গাইবান্ধা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ার জেনারেটরের ব্যাটারী এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। এটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য যন্ত্রাংশও বিকল হয়ে যাচ্ছে। জেনারেটর তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত হাসপাতালের ওয়ার্ডমাষ্টার মকবুল হোসেন বলেন দুর্বত্তরা কয়েক দিন আগে ঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙে জেনারেটরের যন্ত্রাংশ চুরির চেষ্টা করেছে।

গাইবান্ধা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলকার নাইন বলেন, ৪০ কেভির এই জেনারেটর থেকে ৩২ কিলোওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এই বিদ্যুৎ দিয় লোডশেডিংয়ের সময় হাসপাতালে অস্ত্রোপচার চালানো, এক্স-রে মেশিন ও শীতাতপযন্ত্র চালানোসহ পুরো হাসপতাল এলাকায় বিদ্যু সরবরাহ সম্ভব। জেনারেটরটি স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের সময় যাতে জর“রী অস্ত্রোপচারের কাজে বিঘ্ন না ঘটে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শাহীনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বেসরকারিভাবে পাওয়া ছোট দুটি জেনারেটর দিয়ে কোনামতে জরুরি বিভাগ ও হাসপাতালের প্রধান ফটকে বাতি জ্বালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক এবং গাইবান্ধার সিভিল সার্জন নিমুলেন্দু চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জেনারেটর দেওয়া হলেও জ্বালানি তেলের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। জেনারেটরটি চালাতে প্রতি ঘন্টায় ১৩ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তেল কেনার কোনো তহবিল নেই। এমনকি জেনারেটরটি চালানোর মতো লোকবলও নেই। ডিজেলের বরাদ্দ চেয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

জাভেদ হোসেন, গাইবান্ধা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন