বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়ে এখন কারাগারে

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন তিনি। আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সাক্ষাৎকারও দিতে যান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে তুলে দিল পুলিশের হাতে। কারণ অন্যের দেওয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার মাধ্যমেই এমন ভালো ফল করেছেন তিনি।

অভিযুক্ত ছাত্রের নাম মওদুদ আহমেদ জীবন। তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার শাহারবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে তিনি স্বীকার করেছেন, দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে একজন তাঁর হয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৬ নভেম্বর আলাদা তিন পর্বে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়। দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষায় মেধা তালিকায় মওদুদ আহমেদ জীবন দ্বিতীয় হন। আজ সোমবার সকালে ওই পর্বের মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু হয়। যথারীতি সাক্ষাৎকার বোর্ডে ঢোকেন মওদুদ। বোর্ডে থাকা শিক্ষকেরা ভর্তি পরীক্ষায় থাকা প্রশ্নপত্র থেকে তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু কোনো উত্তর দিতে পারছিলেন না তিনি। এতে শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। তখন তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, প্রক্সির মাধ্যমে তিনি এ ফলাফল করেছেন।

শিক্ষক ও সাংবাদিকদের মওদুদ বলেন, ভর্তি পরীক্ষার দুদিন আগে কুষ্টিয়ার কাটাইখানা মোড়ে রিপন নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের মাস্টার্সের এক ছাত্রের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। রিপন তাকে প্রক্সির মাধ্যমে মেধা তালিকায় স্থান পাইয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। মেধা তালিকায় স্থান পাইয়ে দিলে দেড় লাখ টাকা দিতে হবে বলেও জানান রিপন। এ প্রস্তাবে রাজি হন তিনি। ১৬ নভেম্বর তাঁর হয়ে অন্য একজন পরীক্ষা দেন। মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকারের পর রিপনকে তিনি দেড় লাখ টাকা দেন। মওদুদ দাবি করেন, তাঁর পরীক্ষা রিপন দিয়েছিলেন না রিপন অন্যকে দিয়ে ব্যবস্থা করেছেন, তা তিনি জানেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, রিপন বর্তমানে ঝিনাইদহ কারাগারে। ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে প্রক্সি দেওয়ার সময় রিপনকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মওদুদকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ১৯ নভেম্বর কারাগারে থাকা রিপনের জালিয়াতির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কমিটির সভা হয়নি বলে তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। সভা হলে তাঁর বিরুদ্ধে আসা নতুন অভিযোগটিও তুলে ধরা হবে। তখন কমিটি তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্ববিদ্যালয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কমলেশ দাস বলেন, মওদুদ থানায়। মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন