বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে টেলিফোনে হুমকি-চাঁদাবাজি

Dhaka-karagar০১৯৮০৭৯৭… নম্বর ব্যবহার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একাধিক আসামি তিন দিনে ২০৬ বার বাইরে কল করেছেন। নম্বরটি কারাগারে ব্যবহার করছেন এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগী। তিনি নম্বরটি দিয়ে অন্যকে হুমকি দেয়াসহ চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি মিনিট একশ’ টাকা নিয়ে সাধারণ বন্দিদেরও ব্যবহার করতে দিচ্ছেন নম্বরটি। একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

সূত্র জানায়, কারাগারে বন্দিদের মোবাইল ফোন ব্যবহার কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রভাবশালী বন্দিরা কারাগার থেকে দেদারসে কথা বলছেন। ভেতর থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করছেন শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। কোনো কোনো রাজনীতিবিদও কারাগারে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। সাধারণ বন্দিরাও সন্ত্রাসীদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনে প্রতি মিনিট ১০০ টাকায় আত্মীয়-স্বজন ও সহযোগীদের সঙ্গে কথা বলছেন। আর এই টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বরে আত্মীয় বা নিকটজনদের মাধ্যমে।

সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন ভবনে ও সেলে দাগি আসামিরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ও নভেম্বরের শুরুর দিকে রাজধানীর ওয়ারী এলাকার দুই আসামি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পান। তারা প্রতিদিন কারাগারের ভেতর থেকে ১০০ টাকা মিনিটে মোবাইল ফোনে কথা বলতেন। নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বরে আত্মীয়দের বলতেন ওই টাকা দেয়ার জন্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কথা বলা যায় মোবাইল ফোনে। তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। সেলগুলোতে কারারক্ষী জমাদারদের সহযোগিতায় এসব ফোন ব্যবহার হয় বলে জানান তারা। বিনিময়ে জমাদাররাও মোটা অংকের কমিশন পান। এই দু’জনের মধ্যে একজন কারাগার থেকে নভেম্বরের শুরুর দিকে বের হন। তিনি হত্যা মামলার আসামি।

তিনি বলেন, কারাগার থেকে বের হলে আবার জেলগেট থেকে গোয়েন্দারা আটক করতে পারে- এমন আশংকার কথা তাকে জানানো হয়। এক কারা কর্মকর্তাকে টাকা দিলে বাইরে থেকে আর কেউ আটক করবে না। এ কথা শোনার পর তিনি স্বজনদের মাধ্যমে ওই কর্মকর্তাকে ২৭ হাজার টাকা দেয়ার পর কারাগার থেকে বের হন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেসার আলম বলেন, আসামি জামিন দেন আদালত। জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে গেটে কেউ আটকিয়ে টাকা নেয়ার প্রশ্নই আসে না। এসব অভিযোগ সত্য নয়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ০১৯৮০৭৯৭… নম্বরটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে অনেক দিন ধরে। নম্বরটি সাধারণত দুপুরে খোলা হয় আর রাতে বন্ধ করে রাখা হয়।

২৯ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ দিনে ওই নম্বর থেকে বাইরে ২০৬টি কল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ অক্টোবর ফোনটি খোলা হয় বেলা ১টা ৪২ মিনিটে। আর বন্ধ করা হয় রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে। এই সময়ের মধ্যে ৭৩টি কল করা হয়েছে ওই মোবাইল থেকে। ওই সিমটি কেনা হয় মুগদা এলাকার একটি টেলিফোনের দোকান থেকে। সিমের রেজিস্ট্রেশনের তারিখ গত ১৩ মার্চ। আনোয়ার নামে যাত্রাবাড়ী ঠিকানায় সিমটি রেজিস্ট্রেশন করা। তবে এই নাম ও ঠিকানা ভুয়া বলে নিশ্চিত হয় গোয়েন্দা সূত্র।

এছাড়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর থেকে রাশেদ নামে এক সন্ত্রাসী তিন দিন আগে একটি টেলিটক নম্বর থেকে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কারাগারের জেলার নেসার আলম বলেন, কারাগারের ভেতরে মোবাইল ফোনে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। কারণ সেখানে জ্যামার বসানো আছে।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ একজন রাজনৈতিক নেতা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন বলে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই সংস্থা অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দফতরে পাঠায়। তাতে উল্লেখ করা হয়, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ বাংলালিংকের ২টি সিম ব্যবহার করে এক প্রভাবশালী বন্দি তার পরিবারের সদস্য ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন