১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তৎকালীন সেই নৃশংসতার জন্য পাকিস্তানের অনেক নাগরিক বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলছেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের পত্রিকাগুলোও। পাকিস্তানের তেমনি একটি উদারপন্থী সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘আউট লুক’।
১৯৭২ সালের ১ ডিসেম্বর দৈনিক পূর্বদেশ ‘ইয়াহিয়ার বিচারের জন্য পাকিস্তানে জোর দাবি উঠেছে’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি খবর থেকে এ তথ্য জানা যায়।
‘আউট লুক’ তাদের বক্তব্যে বলে, বাংলাদেশে যে নারকীয় অত্যাচার হয়েছে তার মূল হোতা হচ্ছেন ইয়াহিয়া। আউট লুকের এ দাবির মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করা।
এমনকি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে জেনারেল ইয়াহিয়া যে ভুল ও অন্যায় করেছে, সে কথা বলতেও ছাড়েনি পত্রিকাটি। বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর লোকদের দ্বারা যেসব পাশবিক অত্যাচার হয়েছে- এসব জেনারেল ইয়াহিয়ার জন্যেই। কাজেই যেমন নাৎসীদের বিচার করে জার্মানী কলঙ্কমুক্ত হয়েছে তেমনি পাকিস্তকেও কলঙ্কমুক্ত হতে হবে।
অথচ সম্প্রতি পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের মতো কিছু করেনি বলে সেদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মৌসুমী রহমানকে তলব করে জানিয়েছে।
বাংলাদেশ পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে এমন কথাও ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে জানান পাকিস্তানের সার্ক ও দক্ষিণ এশিয়া অণুবিভাগের মহাপরিচালক। তাকে আরও বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পাকিস্তান রাজি হলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ধরনের কিছু পাকিস্তান লক্ষ্য করছে না।
এছাড়া ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের বিষয়ে পাকিস্তান গভীর উদ্বেগ ও ক্ষো প্রকাশও করা হয়।
পাকিস্তানের এই মিথ্যাচার নিয়ে দুই দেশের রাজনীতিতে এখন বইছে সমালোচনার ঝড়।
প্রিয়াংকা আচার্য্য: সাংবাদিক, নাট্যশিল্পী।



