বিশ্ব ব্যাংকের মানদণ্ডে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ায় কয়েকটি দাতা সংস্থা ও দেশ ঋণের ওপর সুদ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সুদ বাড়ানোর এ ধরনের প্রস্তাব ‘প্রতিরোধ’ করা উচিৎ, বলেন মুহিত।
বুধবার ‘ইস্তাম্বুল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন’ এর পর্যালোচনা খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সম্প্রতি কয়েকটি দাতা সংস্থা আমাদের নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার কথা উল্লেখ করে সুদের হার বাড়াতে নোটিস দিয়েছে। সম্প্রতি জাপান সুদের হার নিয়ে কথা তুলেছে। আমি তাদের বলেছি, এখনই আমরা ওই পর্যায়ে যাইনি।”
বর্তমানে বিশ্ব ব্যাংক ০.০৭৫ শতাংশ, জাইকা ০.০১ শতাংশ এবং এডিবি ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত সুদে বাংলাদেশকে ঋণ দেয়। মধ্যম আয়ের দেশের ক্ষেত্রে এই হার ৩ শতাংশ পর্যন্ত হয়।
মুহিত বলেন, বিশ্ব ব্যাংক তাদের সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ ঘোষণা করলেও জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী বাংলাদেশের উত্তরণ এখনও ঘটেনি।
জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে নিয়ে তিন বছর পর পর পর্যালোচনা বৈঠক করে। ২০১৫ সালের সর্বশেষ বৈঠকেও বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।
মুহিত বলেন, জাতিসংঘ সব সময় আগের বছরের তথ্যের ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থান পর্যালোচনা করে বলে ওই বৈঠকে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির প্রতিফলন হয়নি। পরের বৈঠক হবে ২০১৮ সালে। ওই বৈঠকে জাতিসংঘের তালিকায় বাংলাদেশ মধ্য- নিম্ন মধ্যম আয়ের তালিকায় উন্নীত হবে। এরপর পর্যবেক্ষণের আওতায় আরও তিন বছর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় রাখা হবে।
“সে হিসাবে আগামী ২০২১ সালের আগে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারবে না। আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে গেলে সুযোগ-সুবিধা কম পাব।”


