বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ইউনাইটেড হাসপাতালে অচেতন তরুনীকে যৌন নির্যাতন

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে প্রায় অচেতন এক তরুণীকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। এরমধ্যে হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত পুরুষ নার্স সাইফুল ইসলামকে বরখাস্ত করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সম্রান্ত পরিবারের ওই নির্যাতিত তরুণী বলেন, অপারেশনের পর জ্ঞান ফিরলে তিনি টের পান তাকে শারীরিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি জানান, নিজের শরীরের নানা স্থানে হাতের চাপ পেয়ে কিছুটা ভয়ে তিনি জেগে উঠে দেখেন গায়ে হাত দেয়া মানুষটি পুরুষ এবং নারীদের জন্য নির্ধারিত পোষ্ট অপারেটিভ রুমে কোনো নারী নার্স নেই।

নির্যাতিতা বলেন, আমি অনুভব করতে পারছিলাম আশেপাশে কেউ একজন হাঁটছে। সে এসে আমার বুকে হাত দিয়ে কতক্ষণ নির্যাতন করল। আমার মনে হল কোনো নারী নার্স এরকম করবে না। এমন সময় সে শরীরের বাকি কাপড় উন্মুক্ত করল এবং সে শরীরে হাত দিবে এমন সময় আমি সজাগ হবার ভান করলাম। সজাগ পেয়ে ওই ছেলেকে দিয়ে আমি নার্সকে ডাকলাম। নার্সরা সব শুনে ছেলেটাকে সরিয়ে ফেলল।

ওই তরুণী রোগী বলেন, ঘটনার পর আধাঘণ্টা ধরে আমি আমার স্বামীর সাথে দেখা করতে চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া দেয়নি। তারা উল্টো আমাকে বলে এটি গোপন রাখতে এবং আমার স্বামীকে না বলতে। তাহলে মিডিয়াতে জানাজানি হয়ে যাবে।

নির্যাতিতার স্বামী বলেন, রাত প্রায় দশটা পর্যন্ত হাসপাতালের ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে দায়িত্বরত ডাক্তারের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। পরদিন সকাল আটটায় জানানোর পর তারা একটা মিটিং ডাকে।

এ সময় রোগী ও তার স্বজনরা অপরাধীকে বারবার তাদের সামনে আনার অনুরোধ করেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন যদি তারা মামলা করেন তবে কর্তৃপক্ষ অপরাধী সাইফুল ইসলামকে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন।

রোগীর স্বামী বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে খবর সংগ্রহের অনুমতি চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত আবেদন করতে বলেন এবং এটা প্রচারে নিরুৎসাহিত করেন।

তারা আমাদের হুমকি দিয়েছে যে, তারা যদি সঠিক ব্যবস্থা নিতে যায় সেটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক হবে। এটা আমাদের কাছে এখনও বোধগম্য হয়নি তারা পুলিশি অ্যাকশন নিচ্ছে কিনা, এটি এক ধরনের প্রতারণা হতে পারে।

এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতাল পরিচালক সাগুফতা ইয়াসমিন বলেন, “যা হয়ে গেছে কোনো কিছু করে এই ক্ষতি পূরণ সম্ভব না।”

রোগীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা করবে না। তিনি উল্টো বলেন রোগী মামলা করলে হয়রানির শিকার হবেন। গত সপ্তাহে যা হয়েছে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করেন তিনি।

(একাত্তর টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদন অবলম্বনে)

আরও পড়ুন