যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকরের বিষয়ে পাকিস্তানের ধারাবাহিক নেতিবাচক মন্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে। পররাষ্ট্র বিশ্লেষক আব্দুর রশিদ বলছেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের সুযোগে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় পাকিস্তান। এ কারণে এ সম্পর্ক না থাকলেই দেশ আরও নিরাপদ হবে। আর সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির বলছেন, এ ধরনের বাড়াবাড়ি বন্ধ করে ক্ষমা চাওয়ার সময় এসেছে পাকিস্তানের।
যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের ও আলী আহসান মো. মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিচারকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দেয়। অবশ্য এই প্রথম নয়, কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ফাঁসির পরও এই ধরণের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল তারা। ৭১ এ অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করায় তাদের ফাঁসি দেয়া হয়েছে বলেও পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাবও গৃহীত হয়।
চুপ করে থাকেনি বাংলাদেশ, ঢাকায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ডেকে বাংলাদেশের প্রতিবাদ প্রত্যাখ্যান করে অস্বীকার করে গণহত্যার দায়। এ অবস্থায় পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা না থাকা নিয়ে গুঞ্জন দেশ জুড়ে। আর পররাষ্ট্র বিশ্লেষকরা বলছেন সময় এসেছে নতুন করে ভাবার।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘যদি তারা ক্ষমা না চায় তাহলে আদর্শগতভাবে বা নৈতিকভাবে সম্পর্ক বাড়তে পারে না। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক চলমান থাকলে ঝুঁকি কমবে না বাড়বে সেখানে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে।’ সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির বলেন, ‘তাদের অস্বস্তি আছে সেটা আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু সেটাকে তারা যেভাবে প্রকাশ করছে সেটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
কূটনৈতিক সম্পর্কের আড়ালে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে অভিযোগ করে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছেদ দেশকে আরও নিরাপদ করবে বলেও মত দেন তারা। প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্কের টানা পোড়েন, জঙ্গিবাদে মদদ দেয়া, মানবাধিকারসহ বহু ইস্যুতে পাকিস্তানের গায়ে যখন ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিচিতি তখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো, পাকিস্তানের জন্য মঙ্গলজনক নয় বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।


