বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

অধ্যাপকের জমি দখলের পায়তারা ছাত্রলীগ নেতার

land--ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ায় এক অধ্যাপকের জমি স্থানীয় ছাত্রলীগের এক নেতা ও তাঁর কর্মীরা দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অধ্যাপকের ছেলে বাদী হয়ে ওই নেতা ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বাদীর অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতার হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের সহায়তা চাইতে গিয়ে উল্টো তাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। পুলিশ জিডি বাবদ টাকা তো নিয়েছেই, এখন জমিসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করে দেবে বলে এক লাখ টাকা দাবি করছে।

অভিযোগ ওঠা ওই নেতা হলেন ছাত্রলীগের আশুলিয়া থানা শাখার সভাপতি এস এ শামীম। অভিযোগের ব্যাপারে তাঁর ভাষ্য, দখল নয়, ওই জমি সাময়িকভাবে ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠ করতে চেয়েছেন তিনি।

অভিযোগকারী পরিবারের ভাষ্যমতে, জমিটির মালিক তৎকালীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান মির্জা হারুন অর রশিদ। ১৯৮০ সালে তিনি আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের টাট্টিবাড়ি প্রফেসরপাড়া এলাকায় ওই জমিটি কেনেন। জমির পরিমাণ ছয় কাঠা। কেনার পর জমির চারদিকে নিচু সীমানা দেয়াল তুলেছেন। বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা শামীম ও তাঁর ভাই সোহাগ হোসেনসহ কয়েকজন ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন।

দখলের জন্য গত ২১ নভেম্বর শামীমের লোকজন ট্রাকে মাটি এনে ওই জমি ভরাট করছেন, মাটি কাটছেন। স্থানীয় একজনকে দিয়ে ছাত্রলীগের ওই নেতাকে এসব করতে নিষেধ করা হয়। তিনি উল্টো হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন এবং ওই জমিতে ঘর ওঠাবেন বলেও এলাকায় প্রচার করছেন। এ অবস্থায় গত ২২ নভেম্বর বিকেলে আশুলিয়া থানায় হারুন অর রশিদের ছেলে মির্জা ইনামুর রশিদ একটি জিডি করেন।

ইনামুর বলেন, দখলের চেষ্টার দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের কাছে গিয়ে আরেক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে এবং তা চলছে। জিডি নেওয়ার সময় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাকে দিতে হয়েছে ৫০০ টাকা, জিডির তদন্ত কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান নিয়েছেন চার হাজার টাকা। ওই দুজনের কাছে থানা থেকে নোটিশ পাঠানোর জন্য আরেক কর্মকর্তাকে দিতে হয়েছে এক হাজার টাকা। জিডি বাবদ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা খরচের পরও এসআই আনিসুর এখন এক লাখ টাকা দাবি করছেন। তিনি বলছেন, ওই টাকা দিলে তিনি জমিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করে দেবেন।

ইনামুর রশিদের বাবা হারুন অর রশিদ বলেন, ৩২ বছর শিক্ষকতা করেছি। উচ্চপর্যায়ে আমার অনেক চেনাজানা লোক আছে। কিন্তু আমি সহযোগিতার আশায় ছেলেকে পুলিশের কাছে পাঠিয়েছি। আমার জমি দখলের চেষ্টা করছে, পুলিশ কিছুই করছে না! দেশটা কোথায় গেছে?

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতা এস এ শামীম বলেন, ওই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে গর্ত ছিল। তাই ওই গর্ত ভরাট করে ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠ করতে চেয়েছেন তিনি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে জিডি করার পর তিনি অন্যত্র মাঠ করেছেন।

শামীম বলেন, ‘অন্য জায়গায় মাঠ করলেও আমি সহজে ওই জমির বিষয়টি ছাড়ব না। আমার বিরুদ্ধে যেহেতু অভিযোগ হয়েছে, তাই ওই জমির মালিক কে, তা আমি দেখতে চাই। আমি যদি দখলের চেষ্টা করতাম, তাহলে তো এত দিনে ঘর তুলে ফেলতাম। পুলিশও বাধা দিতে পারত না।’

জমির মালিকানা কার, তা তো পুলিশ দেখবে, আপনি কেন? এ প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এলাকায় রিউমার (গুজব) ছড়াইছে। আমি এমনি এমনি ছেড়ে দেব না।’

টাকা আদায় ও টাকা দাবির অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার এসআই আনিসুর রহমান তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি ছাত্রলীগের সভাপতি ও তাঁর ভাইকে থানায় ডেকে পাঠিয়েছি। তাঁরা আসেন নাই।’

এসব বিষয় জানানোর পর আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসীনুল কাদের বলেন, ‘আমি তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে দিচ্ছি। আর যারা দখল করার চেষ্টা করছে, তাদের থানায় ডেকে শাসিয়ে দিচ্ছি। তবে জমির মালিকদের উচিত, দখল ঠেকাতে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া।’

আরও পড়ুন