বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

গৌতম বুদ্ধের মূর্তি বসিয়ে জমি দখল

CTG-Buddhaপ্রথমে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধের একটি মূর্তিকে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নেয়া হয়। একই সাথে সেখানে তৈরি করা হয় অস্থায়ী বাঁশের তৈরি একটি বৌদ্ধ মন্দিরও। সেই সাথে সেখানে আস্তানা তৈরি করে একজন বৌদ্ধভিক্ষুকেও নিয়োগ দেয়া হয় ‘পূর্জা অর্চণার’ জন্য। এভাবে কয়েক দিন একটি অস্থায়ী মন্দির স্থাপনের পর সেখান থেকে ওই ‘মন্দির’ স্থন্তারিত হওয়ার পরই সেখানে গড়ে তোলা হয় ঘর। আর সেই ঘর ভোগ করে থাকেন অন্যের জায়গায় বুদ্ধের ‘মন্দির’ স্থাপনকারী ও্ই চক্র।

আর এভাবেই ধর্মের মোড়ক গায়ে দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে নগরীর বায়েজিদ থানার মোহাম্মদ নগর এলাকায় জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। যারা ‘অস্থায়ী বৌদ্ধ মন্দির’ স্থাপনের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজনের মালিকানাধীন জায়গা দখল করে এখন সেখানে বসতি স্থাপন করে বিক্রি করছেন। এনিয়ে ভোক্তভোগীদের কয়েকজন প্রতিবাদ করলে উল্টো তারাই হামলা-মামলার শিকার হয়ে চুপসে যেতে হয়েছে। আবার অনেকে ‘ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা’ হবে এমন অভিযোগ উঠার আশঙ্কায় নিজরে জায়গা থেকে থাকছেন নিরাপদ দূরত্বে।

বাংলামেইলের অনুসন্ধানে ধর্মীয় মোড়কে মন্দির স্থাপনের মাধ্যমে জায়গা দখলকারী চক্রের সন্ধান মিলেছে। ওই চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ থেকে শুরু করে স্থানীয়রা কথা বললেও দখলের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন প্রধান অভিযুক্ত সুদত্ত বড়ুয়া। যার বিরুদ্ধেই মূলত মন্দির স্থাপনের মাধ্যমে জায়গা দখলের অভিযোগ ভূক্তভোগিদের।

সরেজমিন পরিদর্শন করে জানা গেছে, বায়েজিদ বোস্তামাী থানার মোহাম্মদ নগর এলাকার আলমগীর সড়কের শেষ মাথায় ১০ গণ্ডার একটি জায়াগায় এখন চোখ পড়েছে মূর্তি বসিয়ে ভূমি দখলকারীদের। যেটির অবস্থান ওই ১০ গণ্ডার ভেতর অবস্থিত ‘সম-স্বামিত্ব গৃহ নির্মাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের’ মালিকানাধীন সরকারি খাস জমির বন্দোবস্তী জায়গা হিসেবে সমিতি থেকে কেনা পশ্চিম ষোলশহর মৌজার আরএস/৯২/৭৭/৮০/৯৫/৯৪ দাগের এবং বিএস/১২০৭৭/১২০৭৯/১২০৮১/১২০৮০/৮০ দাগের ৫ শতক বা ৩ কাঠা।

এই ভূমির বিবরণে দেখা যায়, উত্তরে সমবায় আবাসিক প্রকল্প লিমিটেড এবং বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি। পূর্বে এস এ দাগ নম্বর ৪০৮/৫০২/৫১৩। দক্ষিণে কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকা এবং মোহাম্মদনরগ আবাসিক সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং পশ্চিমে কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকা। মূল মালিক থেকে প্রাপ্ত আমোক্তারনামা অনুযায়ী চট্টগ্রাম সদর ভূমি অফিসে রেজিস্ট্রেশনকৃত দলিল মোতাবেক এই জায়গার বর্তমান মালিক ক্রয় সূত্রে দ্বিতীয় পক্ষ মো.সাইফুদ্দীন।

তবে ওই জায়াগায় স্থাপন করা হয়েছে বাঁশের তৈরি ‘শান্তিকুঞ্জ বৌদ্ধ বিহার’ নামে একটি মন্দির। ওই মন্দিরে বেড়ার সাথে ঝুঁলিয়ে রাখা হয়েছে চট্টগ্রামের বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, স্থানীয় সাংসদ মইনউদ্দিন খান বাদলের নামে ব্যানার। যেটির মাধ্যমে মূলত এই জায়দা ‘দখলের’ বৈধতা দেয়ার চেষ্টাই করছেন অভিযুক্ত সুদত্ত বড়ুয়ার।

বুদ্ধ মূর্তি বসিয়ে অস্থায়ী মন্দির বসিয়ে কিছুদিন পর সেটিতে বসতি স্থাপন করেন সুদত্ত বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন ওই ভূমিদস্যু চক্র এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীদের। এরকম একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে স্থানীয় বায়েজিদ থানায়। গত ২৭ নভেম্বর বায়েজিদ থানায় দায়েরকৃত এরকম এক অভিযোগে জনৈক সাইফুদ্দীন অভিযোগে বলেন, ‘বায়েজিদের মোহাম্মদনগর আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের সি ব্লকের ‘সম-স্বামিত্ব গৃহ নির্মাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের’ মালিকানাধীন সরকারি খাস জমির বন্দোবস্তী জায়গা হিসেবে সমিতি থেকে কেনা পশ্চিম ষোলশহর মৌজার আরএস/৯২/৭৭/৮০/৯৫/৯৪ দাগের এবং বএস/১২০৭৭/১২০৭৯/১২০৮১/১২০৮০/৮০ দাগের ৫ শতক বা ৩ কাঠা জায়াগা গত ২০ আগস্ট ২০১৮ সাল থেকে ক্রয় সূত্রে ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু চলতি বছরের গত ২২ নভেম্বর বাউন্ডারি দেয়াল দেয়া খালি এই জায়গায় সুদত্ত বড়ুয়ার নেতৃত্বে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন লোকজন কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য পেন্ডেল স্থাপন করে ‘

‘সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রতির কারণেই মূলত তাদের সেখানে এই অনুষ্ঠান করতে দিলেও পরবর্তীতে রাতের আঁধারে চীবর দান অনুষ্ঠান শেষে হলেও অনুষ্ঠানের আয়োজকরা বেড়া দিয়ে সীমানা প্রাচীর দিয়ে একটি অস্থায়ী মন্দির তৈরি করেন। সেখানে শান্তিকুঞ্জ বৌদ্ধ বিহার নামে একটি মন্দিরের সাইনবোর্ডও লাগিয়ে দেন। এরপর ২৬ নভেম্বর আমার ভাই সালাউদ্দিন ওই জায়গায় গিয়ে অনুষ্ঠানের পর সেখান থেকে না গিয়ে কেন অস্থায়ীভাবে মন্দির স্থাপন করা হয়েছে তা জানতে চাইলে তারা আমাদের জায়গাকে মন্দিরের কেনা জায়গা বলে দাবি করে বসেন! এমনকি এই জায়গার মালিকানা দাবি করতে আসলে মন্দিরে হামলার অভিযোগে মামলা করারও হুমকি দেন।’ অভিযোগে উল্লেখ কর হয়।

এ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, ‘তারা কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান করবে বলে আমাদের কাছ থেকে জায়গাটি দু’তিন দিন ব্যবহারের জন্য নিয়ে রাতের আঁধারে বাশের বেড়া দিয়ে অস্থায়ী মন্দির নির্মাণ করে বসেন। এনিয়ে কথা বলতে গেলে উল্টো আমাদেরই এখন মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তারা এরআগে এই এলাকায় আরো পাঁচটি প্লট এভাবে প্রথমে অনুষ্ঠান করবে বলে পেন্ডেল টাঙিয়ে বুদ্ধের মূর্তি বসিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই রাতের আঁধারে বাশের বেড়া দিয়ে মন্দির নির্মাণ করে সেটি দখল কওে নেন। এরপর বছরখানেক সেখানে থাকার পর মন্দিরটি অনথ্য সরিয়ে দখলকৃত জায়াগায় বাড়ি নির্মাণ করে বিক্রি করে দেয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এনিয়ে প্রশাসন কিংবা সামাজিকভাবে প্রতিকার চাইতে গেলেও কোনো ধরণের দলিল দেখাতে না পারলেও উল্টো সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের গুজব ছড়িয়ে দিয়ে থাকে সুদত্ত বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন এই চক্র। দখলের জন্য বুদ্ধের মূর্তি থাকায় রামুর ঘটনার পর কেউ নিজের জায়াগা হলেও ভয়ে প্রবেশ করতে সাহস পায়না কেউ। এবিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত চাই আমরা। সংখ্যগরিষ্ট মুসলমানদের দেশে এখন যেন আমরাই সংখ্যালঘু হয়ে গেলাম!’

ঘটনার সত্যতা জানতে দখলকৃত ওই জায়াগায় গেলে সেখানে অবস্থানকারী একজন এই প্রতিবেদকসহ জায়গা ফিরে পেতে অভিযোগকারী সালাউদ্দিন ও সাইফুদ্দীনকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠেন, ‘আপনারা আসছেন, আসতে পারেন, তবে কোনো ছবি টবি তোলবেন না। জায়গা আপনাদের হতে পারে, তবে যখন আমরা আছি তখন আমাদেরও অধিকার আছে।’

এরপর কখন থেকে এই স্থানে মন্দির নির্মাণ করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আগে অস্থায়ীভাবে ওই সড়কে (৪ নম্বর) মন্দির স্থাপন করেছিলাম। এখন সেখানে বাড়ি নির্মাণ করায় এই জায়াগায় মন্দির নির্মাণ করেছি। আপনারা যদি আমাদের ছবি তোলেন, ভিডিওগুলো প্রচার করেন, সেটি আমাদের জন্যও ভালো হবে। নিউজ করলে করতে পারেন। আমাদেরও দেশে-বিদেশে উপরের লেভেলে লোক রয়েছে। আমি ভান্তেকে ডেকে দিচ্ছি।’

এরপর বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরি ঘর থেকে বের হয়ে এক বৌদ্ধ ভিক্ষু নিজেকে ভান্তে পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘কি জানতে চান বলুন? আমরা এখানে আছি, গত কয়েকদিন ধরে এটা আমাদের অস্থায়ী মন্দির। আমাদের অন্য কোথাও জায়গা হলে আমরা আমাদের এই জায়গা ছেড়ে চলে যাব। এর বেশি কথা জানতে চাইলে দাদার (সুদত্ত বড়ুয়া) সাথে কথা বলুন।’ তবে দু’জনেই নিজেদের নাম পরিচয় প্রকাশ করেননি।

সেখান থেকে বের হতেই সাংবাদিক এসেছে শুনে এই প্রতিবেদকের কাছে ছুটে আসেন স্থানীয় মুদির দোকানদার বৃদ্ধ মোশাররফ হোসেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এখানকার জায়গার ওপর কুনজর পড়েছে কলেজ শিক্ষক সুদত্ত বড়ুয়া ও তার সিন্ডিকেটের ওপর। তিনি আমার একটি আড়াই গণ্ডার জায়গা দখল করেছে ঠিক এই কায়দায়। যেরকম সাইফুদ্দিনের জায়গায় অনুষ্ঠান করার পর পেন্ডেল টাঙিয়ে একটি বুদ্ধ মূর্তি বসিয়েছে। ঠিক তারা আর সেখান থেকে সরেনা। এভাবে অস্থায়ী মন্দির বানিয়ে কয়েক মাস পর সুযোগ বুঝে সেখানে বাড়ি তৈরি করে ভাড়া কিংবা দখল বিক্রি করে দেয়। এখনো পর্যন্ত আমি ওই জায়াগার খাজনা পরিশোধ করলেও কিন্তু ভোগ দখল করছে সে। এনিয়ে তার সাথে লাগতে গিয়ে সে আমাকে তিনটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। যদিও ওইসব মিথ্যা মামলা থেকে আমি আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।’

আরেক ভূক্তভোগী ইমরান বলেন, ‘এরআগে পাঁচ গন্ডার একটি জমি আমি ঢাকায় বসবাসকারী ববিতা বড়ুয়া নামের এক নারীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা বায়নার মাধ্যমে আমি কিনে নিয়েছি। যেটির কেয়ারটেকারের দায়িত্বে ছিলেন এই সুদত্ত বড়ুয়া। তবে আমি টাকা দেয়ার পর যখন দখল বুঝে নিতে জায়াগা গেলাম তখন সেটিকে নিজের জায়গা দাবি করে সে আমাদের জায়গায় নামতেও দেয়নি। পরবর্তীতে আমরা ববিতা বড়ুয়ার কাছ থেকে টাকা ফেরত নিয়ে নিলাম। তবে শুনেছি ববিতা বড়ুয়া নাকি তার কাছ থেকে এই জায়গা এখনো দলখমুক্ত করতে পারেননি।’ শুধু এরা নন, এই চক্রের হাতে জমি হারিয়েছে জহির উদ্দীন, মোহাম্মদ শাহাদাতসহ আরও অনেকে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদনগর সমবায় সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান বলেন, ‘এই সুদত্ত বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটটি আমাদের এলাকার অনেকের জায়গায় মন্দির নির্মাণ করে পরবর্তীতে সেটি দখল করে আসছে। সে এরআগেও একাধিক জনের জায়গায় এভাবে অস্থায়ী বাঁশের বেড়া দিয়ে মন্দির নির্মাণ করে পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে সেখানে ঘর নির্মাণ করে তা ভাড়া কিংবা বিক্রি করে দেয়। আর এনিয়ে জায়গার প্রকৃত মালিকরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সে সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতনের ধোয়া তুলে পার পাবার চেষ্টা করে। আর বাড়তি ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য অনেকে তার সাথে পেরে না উঠে আইনের আশ্রয় নিলে সেও বিভিন্ন মহলে তদবির করে পার পেয়ে যায়।’

একই প্রসঙ্গে সরকার থেকে খাস জমির লিজ নেয়া ‘সম-স্বামিত্ব গৃহ নির্মাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের’ সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘সুদত্ত বড়ুয়ারা যেখানে নিজের জমির মালিকানা দাবি করে মন্দির স্থাপন করেছে সেটি হচ্ছে সম স্বামিত্ত গৃহ নির্মাণ সমিতির জায়গা। এটি আমাদের সমিতির সদস্য নুর বেগমের জায়াগা। ১০ গন্ডার ওই প্লটের মধ্যে আড়াই গন্ডা জাগার মালিক নুর বেগম। তার কাছ থেকে দ্বিতীয় পার্টি হিসেবে আমোক্তারনামা গ্রহণ করেছেন সাইফুদ্দীন। আর সেই জায়াগটুকু সহ পুরো ১০ গণ্ডায় বৌদ্ধ মন্দির স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কোনো বড়ুয়ার কিংবা মন্দিরের নামে কোনো জায়গা নেই। এরমধ্যে জহির নামের আরেকজনসহ যাদের জায়গা রয়েছে তারা সকলেই মুসলমান। এখন তারা মন্দির বসিয়ে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছে।’

জানতে চাইলে বায়েজিদ থানার ওসি নুরুল আবছার বলেন, ‘জায়গা দখল করে মন্দির স্থাপনের অভিযোগ পেয়ে একজন অফিসার নিয়োগ করেছি। আর বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরণের মন্দির কিংবা কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার নোটিশ জারি করা হয়েছে। আর জায়গার মূল মালিক হিসেবে দুপক্ষই দাবি করছে। এখন বিষয়টি আদালতই নির্ধারণ করবে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুদত্ত বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা আগে মোহাম্মদনগর এলাকায় অস্থায়ীভাবে মন্দির স্থাপন করলেও এখন ওই জায়গাটি আমরা কিনে নিয়েছি। সেজন্য সেখানে মন্দির স্থাপন করেছি। এই জায়গাটি আমরা মন্দিরের নামেই কিনেছি।’

তবে কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে সেটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই মূহুর্তে নাম মনে পড়ছেনা। দলিল দেখে বলতে পারব। তারা থানায় যে অভিযোগ করেছে, সেটির জবাব আমি থানায় দিয়েছি।’

কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান করার নামে জায়গা নিয়ে সেখানে মূর্তি বসিয়ে অস্থায়ী মন্দির বানিয়ে জায়াগা দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইল সুদত্ত বড়ুয়া বলেন, ‘এসব আমার বিরুদ্ধে গুজব ছাড়াচ্ছে। এর কোনো ভিত্তি নেই। আমাদের এই মন্দিরের অনুষ্ঠানে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাংসদ মঈনউদ্দিন খান বাদল থেকে শুরু করে অনেকে অতিথি হয়ে এসেছেন। আপনি প্রয়োজনে আমার সম্পর্কে আমাদের কমিশনার মোবারক সাহেবের কাছে জিজ্ঞেস করুন।’

মন্দির অবৈধ নয়, মন্দিরের নামে জায়গা দখলের বিষয়ে আপনার স্পষ্ট বক্তব্য কি বলুন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এসব আমাদের কমিশনার (৮ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর) জানেন। তার কাছেও অনেক প্রশ্নের উত্তর পাবেন। আমরা মন্দিরের নামে জায়গা কিনে সেখানে মন্দির নির্মাণ করেছি। আর অন্য যেসব স্থানে আগে মন্দির ছিল সেসব জায়গার মালিক মন্দির কর্তৃপক্ষ না হওয়ায় ব্যক্তি মালিকানাধীন হওয়ায় যাদের জায়গা তারাই বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন। এখানে দখলের কোনো প্রশ্নই আসেনা।’

এ বিষয়ে জানতেই ৮ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলীর সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন