শিরোনামটি পড়লে বোঝাই যায়, এটি বীরু, থুড়ি, ধর্মেন্দ্র সম্পর্কে বলা। তিনি যখন এই কথা বলছেন, তখন, কী আশ্চর্য, শহরে বীরুর দোসর জয়। অর্থাত্ অমিতাভ বচ্চন। অন্য সময়-এর ফ্রেমে বিগ বি-এর পাশাপাশি হেমা মালিনী। কথা বলছেন শ্যামা ভগত।
– এ বছর আপনি ঠাকুমা হলেন? নতুন একটা সম্পর্ক তৈরি হল আপনার জীবনে৷ কীভাবে দেখছেন এই নতুন ব্যাপারটা?
হেমা: হ্যাঁ, একেবারে নতুন সম্পর্ক৷ আমার ধারণাই ছিল, এটা আমাকে এত আনন্দ দেবে! ওর নাম দরিয়ান৷ ও প্রতিদিন আমার ঘরে আসে৷ আমি ওর সঙ্গে খেলা করি৷ আমাদের মেয়েদের ছোটবেলার কথা খুব মনে পড়ছে এই সময়৷ আমি তখন ওয়র্কিং মাদার ছিলাম৷ ওরা আমার কাছে ছুটে আসত৷ জড়িয়ে ধরত৷ আমি যখন অন্তঃস্বত্বা ছিলাম, আমার শরীরে খুব একটা বদল আসেনি৷ আমার মেয়েরা যখন জন্মেছিল, খুব কম ওজনের ছিল৷ ৩.৫ পাউন্ড নাকি সদ্যজাতর ঠিকঠাক ওজন৷ কিন্ত্ত ওদের ওজন খুব ছিল৷ সে যাই হোক, দরিয়ান যখন বড় হবে, খুব সুন্দর এক যুবকে পরিণত হবে৷ ওকে দেখেই বোঝা যায়৷ একজন নার্স আছেন ওর দেখাশোনার জন্য৷ ওর মা, আমার মেয়ে অহনা ভয় পায়, দরিয়ান নার্সের কাছে থাকতে থাকতে মাকে চিনতে ভুল করবে না তো৷ আমি ওকে বলেছি, বাচ্চারা নিজের মাকে ঠিক চিনতে পারে৷ আমার মা-ও আমাকে তাই বলেছিল৷ বাচ্চারা সব সময় মায়ের কাছে চলে আসে৷
অন্য সময়: আপনি কি টেলিভিশনের জন্য কোনও নাচের অনুষ্ঠানের কথা ভাবছেন?
হেমা: সিরিয়াল
বানানো অনেক টাকার ব্যাপার৷ চ্যানেলে প্রচুর মানুষ বসে রয়েছেন এসব নিয়ে ভাবার জন্য৷ আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি৷ একটি চ্যানেলের জন্য এর আগে আমি সিরিয়াল বানিয়েছি৷ মাটি কি বন্নো নামের সিরিয়ালটা চলছিল৷ কিন্ত্ত চ্যানেলের বিভিন্ন পদে কম বয়সী মেয়েরা বসে আছেন৷ তাঁরা ক্রমাগত আমাকে বলতে থাকলেন, এটা পাল্টানোর জন্য, ওটা পাল্টানোর জন্য৷ ওঁদের কোনও বিষয়ে কোনও জ্ঞান নেই৷ ওঁদের কথা মতো আমি বদলগুলো করে দিলাম৷ তারপর চ্যানেল-ওয়ালারা আমায় ডেকে বললেন, সিরিয়াল ভালো চলছে না৷ সিরিয়াল ভালো চলেনি ওি পরিবর্তনগুলোর জন্য৷ আমার চিত্রনাট্য খারাপ ছিল না৷ এই অভিজ্ঞতার পরে আমি ঠিক করে নিই, এই সব কাজ আর করব না৷
অন্য সময়: আর পরিচালনা?
হেমা: এখন ছবি বানানো সহজ নয়৷ আমি টেল মি ও খুদা প্রযোজনা করেছি৷ পরিচালক ভালো ছিলেন না৷ এখন কর্পোরেট-রা সব কিছুর ওপর দখল নিয়ে নিয়েছে৷ আমাদের তাদের ওপরই ভরসা রাখতে হবে৷ কর্পোরেট জমানার আগে শোলের মতো ছবি হয়েছে৷ দেব সাব, গুরু দত্ত, রমেশ সিপ্পির মতো প্রযোজকরা স্বাধীনভাবে ছবি বানাতেন৷ এখন কর্পোরেটের নিজস্ব ধারণা আছে৷ কীভাবে চলতে পারে এটা! আমি জানি না, এখন মানুষ কীভাবে ছবি বানান৷ কর্পোরেটের সাহায্য না থাকলে ছবি বানানোও যাবে না৷ আগে একজন প্রযোজক আর একজন পরিচালক থাকতেন৷ এখন পাঁচ জন প্রযোজক৷ আমার ডেডিকেশন আছে, প্রতিভা আছে, কিন্ত্ত সাহায্য করার মতো মানুষ পাব কোথায়! আমি তাহলে কী করে পরিচালনা করব?
অন্য সময়: আপনি অতীতের দিকে তাকিয়ে নিজের জার্নিটা কীভাবে দেখেন?
হেমা: অসাধারণ জার্নি৷ এক কথায় দুর্দান্ত৷ জীবনের প্রথম দশটা বছর আমি দিল্লিতে কাটিয়েছি৷ যেহেতু একজন অভিনেত্রী এবং নৃত্যশিল্পী হতে চেয়েছিলাম, তাই চেন্নাই চলে যাই৷ ঈশ্বরের আশীর্বাদে নৃত্যশিল্পীও হতে পেরেছি, নায়িকাও হতে পেরেছি৷ পরে মুম্বই চলে আসি৷ ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমার জীবনটা একেবারে অন্য রকম ছিল৷ প্রেমে পড়লাম, কাজও চালিয়ে গেলাম৷ জীবনে প্রেম থাকলে, জীবন সুন্দর হয়ে যায়, কাজও ভালো হয়৷ আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলাম৷ তারপর আমার সন্তানরা হল৷ সবকিছুই খুব সুন্দর কেটেছে৷ সবাই জানেন, বিয়েটা আর পাঁচটা সাধারণ বিয়ে ছিল না৷ সেই সময় আমার মা ভারী কাঞ্জিভরম শাড়ি নিয়ে আসত৷ আমি যখন সেগুলো পরতাম, পাঞ্জাবি প্রযোজকদের স্ত্রীরা আমায় দেখে হাসতেন৷ আমি সব সময় মায়ের কথা শুনতাম৷ তখন নায়িকা হওয়াটা বেশ কঠিন ছিল৷ এখন তো সবাই হিরো-হিরোইন৷ আমার ভাগ্য ভালো বলে, আমাকে খুব বেশি লড়াই করতে হয়নি৷ আমার জীবন খুবই আনন্দে কেটেছে৷ আশা করি, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাই কাটবে৷ আমি আরাম করে বসে এসব নিয়ে ধরমজির সঙ্গে আলোচনা করি৷ উনি শের ও শায়েরি মোডে চলে যান৷ উনি অসাধারণ পদ্য লেখেন৷ আমার সেগুলো খুব ভালো লাগে৷ ঈশ্বর যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, জীবনের কোন পর্বটা আমি আবার একইভাবে বাঁচতে চাই, তাহলে উত্তর দেওয়াটা কঠিন হবে৷ কারণ আমার জীবনের সব কটা পর্বই আলাদা আলাদা বাবে সুন্দর৷
অন্য সময়: ধর্মেন্দ্রর বিষয়ে কিছু বলুন৷
হেমা: ওঁকে আমার জীবনে পেয়ে আমি ধন্য৷ প্রথাগত বৈবাহিক জীবন আমি পাইনি৷ কিন্ত্ত আমাকে ঈশ্বর বানিয়েছেনই ওঁর স্ত্রী হিসেবে৷ আর তাই আমি কিছু কাজও করতে পারছি৷ যদি অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে হত, তাহলে হয়তো বসে বসেই জীবনটা কেটে যেত৷ আমি যে প্রচারের আলোয় খুব একটা থাকতে চাই, তা নয়৷ কিন্ত্ত কিছু নির্দিষ্ট কাজ করতে চাই, জীবনে অনুপ্রেরণা চাই৷
অন্য সময়: আপনি কি রেখার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন?
হেমা: রেখার সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ আছে৷ ও আমায় খুব ভালোবাসে৷ খুব পছন্দও করে, খুব শ্রদ্ধাও করে৷
অন্য সময়: ভালো-খারাপ সময়ে কাজের পাশে পেয়েছেন?
হেমা: আমার ভাইয়েরা সব সময় পাশে থাকে৷ যখন মন খারাপ থাকে, ওদের সঙ্গে কথা বলি৷ ওরা আমার খুব কাছের৷ আমিও ওদের ভালোবাসি৷ আলোচনা করি ওদের সঙ্গে৷ ওরা খোলা মনে পরামর্শ দেয়৷ মা খুব কড়া ধাঁচের মানুষ ছিলেন৷ ভাইরা সেখানে খুব সমর্থন করত৷ আমি দুশ্চিন্তায় থাকলেই ওরা আমায় বলত, ঈশ্বরের আশীর্বাদে সব ঠিক হয়ে যাবে৷ কখনও কখনও আমি আমার জীবনটা নিয়ে ভাবি, কাটাছেঁড়া করি৷ কিছু দিন আগেই, যখন দুর্ঘটনাটা ঘটল, আমি আবার প্রথম থেকে সব কিছু ভাবতে বসলাম৷ দুর্ঘটনাটা ছাড়া আর কিছুই ঘটল না কিন্ত্ত৷ জীবনে এগিয়ে যেতে হবে, সেটাই মনে হল৷ আপনি এখজন দার্শনিক হতে পারেন, কিন্ত্ত জীবন থেমে থাকলে চলবে না৷
অন্য সময়: আপনি এখন মথুরার জন্য অনেক কিছু করছেন৷
হেমা: উত্তরপ্রদেশের মথুরার জন্য আমি আবার সবটুকু ঢেলে দিচ্ছি৷ প্রচুর কৃষক আছেন ওখানে৷ শোলের কথা মনে পড়ছে আমার৷ চরিত্ররাও যেন মথুরারই৷ খুব সহজ-সরল৷ এই যেমন একজন বললেন, সুইসাইড কেয়া হোতা হ্যায়৷ ওঁরা এতটাই সহজ-সরল যে, এতদিন ওখানকার কোনও উন্নতিই করা হয়নি৷ আমি ওঁদের সাহায্য করতে চাইছি৷ লোকে ওঁদের লুটেপুটে নিয়ে গিয়েছে৷ কিন্ত্ত কোনও উপকার করেনি৷ দলের ওপরতলায় আমি কথা বলেছি৷ মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের সঙ্গে কথা বলেছি৷ আমার পক্ষে যত দূর করা সম্ভব, করার চেষ্টা করছি৷ বেকারত্বের মারাত্মক সমস্যা রয়েছে৷ একটা বাচ্চা ছেলেকে আমি বললাম, তার দাঁত দেখাতে৷ দেখলাম, ও তামাক চিবিয়ে নেশা করে৷ মাত্র ছ-সাত বছর বয়স! আপনি এটা কল্পনা করতে পারেন!
সুত্র: এই সময়


