পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বোকা-বাক্স নয়, আমি বলব টেলিভিশন হল বুদ্ধিমান বাক্স। সবাই এর দিকেই তাকিয়ে থাকে। এর থেকে বড় বিজনেস আর নেই।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত ‘টেলি-সম্মান’- অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
রাজনৈতিক ভাবনায় ভিন্নতা থাকলেও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে যে মমতা এ বার ‘হল অব ফেম’ টেলি-সম্মান দিতে চান এবং সৌমিত্র তা নিতে অরাজি নন, এ খবর আগেই জানা ছিল। কাজে বাইরে থাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় নজরুল মঞ্চের অনুষ্ঠানে আসেননি সৌমিত্র। তা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি চিঠিও দিয়েছেন। তাঁর হয়ে এ দিন পুরস্কার নেন অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়। পরে ফোনে সৌমিত্র জানান, পুরস্কারের টাকা (৫ লক্ষ) তিনি টালিগঞ্জের দুঃস্থ শিল্পীদের জন্য ‘সিনেটেল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’-এ দেবেন।
অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট অভিনয় শিল্পীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এবার ‘হল অব ফেম’ এর সম্মানে ভূষিত হন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া সব্যসাচী চক্রবর্তী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়ক ও চন্দন সেনকে পুস্কার দেওয়া হয়।
ভারতে অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে যে ভাবে সরব হয়েছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে শাসক দলের ‘সহিষ্ণু’ ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে সৌমিত্র, সব্যসাচী, চন্দনের মতো শিল্পীদের সম্মান দেওয়া অর্থবহ। আগামী নির্বাচনের দিকে তাকালে যা অন্য গুরুত্বেরও ইঙ্গিত দেয়।
অনুষ্ঠানে দুর্ঘটনায় সদ্য প্রয়াত অভিনেতা পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়ের হয়ে ‘মরণোত্তর’ পুরস্কার নেন তাঁর স্ত্রী পামেলা গঙ্গোপাধ্যায়। তখন মঞ্চে একটি গভীর মুহূর্ত তৈরি হয়। বাংলার টিভি সিরিয়ালের জগত এর প্রশংসায় করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


