চাঁদপুরের ছেংগারচরের পর ফেনীর দুই পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপির দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার দুপুরে ‘যাচাই-বাছাই শেষে’ ফেনী পৌরসভায় ফজলুর রহমান বকুল ও পরশুরাম পৌরসভায় মো. মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “ফেনী পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী ফজলুর রহমান বকুল তার হলফনামায় তথ্য গোপন করায় এবং পৌর অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।”
এখন ফেনীতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের আলাউদ্দিন ও জাতীয় পার্টির মির্জা ইকবাল আলমগীর।
অন্যদিকে পরশুরাম পৌরসভার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাহেদা আক্তার বলেন, “বিধি মোতাবেক জামানত না দেওয়ায় মো. মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।”
আর কোনো প্রার্থী না থাকায় একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের নিজাম উদ্দিন আহাম্মেদ চৌধুরী সাজেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণায় অপেক্ষায়।
চাঁদপুরে বাতিল মনোনয়নপত্র:
পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনের শুরুতে চাঁদপুরে বিএনপির এক মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। জমা দেওয়া তথ্যে ‘গরমিল’ থাকার কারণে ছেংগারচর পৌরসভায় ধানের শীষ প্রতীক প্রত্যাশী প্রার্থী সারোয়ারুল আবেদীনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে দুপুরের আগেই ছেংগারচরে মেয়র প্রার্থী সারোয়ারুলের মনোনয়নপত্র বাতিলের কথা জানান চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী হেকমত আলী।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এই প্রার্থী শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও আয়কর রিটার্ন জমা দেননি। জাতীয় পরিচয়পত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক উল্লেখ করা হলেও মনোনয়ন ফরমে এসএসসি লিপিবদ্ধ করা হয়।”
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ১০টায় সারোয়ারুল আবেদীন বা তার প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও কেউ উপস্থিত ছিলেন না।”
১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে সারোয়ারুল আবেদন না করলে নির্বাচন কমিশন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।
সারোয়ারুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মনোনয়নপত্র জমাদানকালে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কোনো ধরনের ভুলত্রুটি ছিল না। এর পরও কেন আমার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়।”
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।
ছেংগারচরে মেয়র পদে সারোয়ারুলসহ দুজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪০ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।
বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, বিভিন্ন ছলে তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে। তবে ইসি বলছে, সব প্রার্থীকে সমান চোখে দেখবেন তারা।


